Realizing Dreams

বিবাহবিডি ডট কমের ইউজার  গন সফলতার সাথে রেজিষ্ট্রেশন করার পর  যে প্যানেলটি পেয়ে থাকেন তাতে বিভিন্ন ধরনের অপশন থাকে । যার মাধ্যমে একজন ইউজার  তার পছন্দ মত  সঙ্গী খুঁজতে পারে । কাউকে প্রাথমিক ভাবে পছন্দ হলে Add to favorite করে রাখতে পারে ও তার সাথে যোগাযোগের জন্য Contact Details নিতে পারে ।

নিচের ছবিটিতে সবগুলো অপশনের ব্যাবহার সম্পর্কে একটি সহায়িকা দেয়া হলোঃ

একজন ইউজারের প্রোফাইল দেখে তার সাথে যোগাযোগ বা  সম্পর্ক তৈরীর জন্য যে অপশন গুলো রয়েছে তা নীচের স্বচিত্র  দেখানো হলোঃ


বিবাহবিডি  একাউন্টে লগিন করার পর একজন একটিভ ইউজার যে পেইজ টি দেখতে পাবেন সেটি হচ্ছে  “হোম পেইজ – Home Page”

এই পেইজ টিতে যে অপশন গুলো আছে সে গুলো চিত্রের মাধ্যমে দেখানো হলোঃ

বিবাহবিডি ডট কমে একাউন্ট সেটিংস লিংকটি একটি গুরুত্বপূর্ন অপশন। এই লিংক থেকে আপনি পাসওয়ার্ড চেইঞ্জ, ইমেইল সেটিংস, প্রাইভেসী সেটিংস ও আপনার প্রোফাইল টি ডিএক্টিভেট করতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার একাঊন্টের গুরুত্বপূর্ন বিষয়গুলো আপনি এই অপশন থেকে নির্ধারন করতে পারেন।

প্রাইভেসী সেটিংসঃ
প্রাইভেসী সেটিংস আপনি আপনার পছন্দ মতো ঠিক করে নিতে পাররেন এজন্য নির্ধারিত ৩টি অপশনের একটি অপশন আপনাকে সিলেক্ট করতে হবে।

অপশনগুলো যথাক্রমেঃ
১। আপনার যোগাযোগের তথ্য বিবাহবিডির সকল পেইড মেম্বারকে দেখাতে চাইলে এই অপশন টি সিলেক্ট করুন।
২। আপনার যোগাযোগের তথ্য যদি শুধু মাত্র ডায়ামন্ড ইউজারদের দেখাতে চান তবে এই অপশন সিলেক্ট করুন।
৩। আপনি যদি চান কাঊকেই আপনার যোগাযোগের তথ্য দেখাবেন না তবে এই ৩ নং আপশন টি সিলেক্ট করুন।

ঊল্লেখ্য ফ্রী মেম্বার গন যারা ৪৫ দিনের জন্য ট্রায়াল হিসাবে বিবাহবিডির মেম্বার হইয়েছেন তারা প্রাইভেসী সেটিংস এর ২ ও ৩ নং অপশন টি সিলেক্ট করতে পারবেন না। শুধু মাত্র পেইড মেম্বার অর্থাৎ যারা মেম্বারশীপ প্যাকেজ কিনেছেন তারাই কেবল সবগুলো অপশন ইচ্ছামত সিলেক্ট করতে পারবেন।

নিচের ছবিটি দেখুনঃ

বিবাহবিডি ডট কম অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন হেল্পটি লক্ষ করুন। অনলাইন রে্জিষ্ট্রেশন টি সম্পূ্ন ভাবে fill up না হলে আপনার প্রোফাইল Active হবে না।  সঠিক ভাবে রেজিষ্ট্রেশন করতে সর্বোচ্য ৫ মিনিট সময় আপনাকে ব্যায় করতে হবে । নিচে রেজিষ্ট্রেশনের ধাপ গুলো পর্যায় ক্রমে চিত্র সহকারে তুলে ধরা হলো।

ধাপঃ -১   মূল তথ্য

অবশ্যই সঠিক ইমেইল আইডি ও ফোন নাম্বার  দিয়ে এই ফরম টি পূরন করিতে হবে । এই ফরম টি পূরন করার পর আপনার প্রদত্ত ইমেইল আইডিতে বিবাহ বিডির লগিন করার পাসওয়ার্ড পাঠানো হবে ।


প্রথম ফরম টি Fillup হলে এইবার নিচের ছবি টি দেখুন , আপনার ইমেইল চেক করে Password সংগ্রহ করে লগিন করুন।

ধাপঃ -২  যোগাযোগের তথ্য

এই তথ্য অন্যান্য ইউজারদের  আপনার সাথে যোগাযোগ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে।

 

ধাপঃ ৩ – ব্যাক্তি গত তথ্যাদি


ধাপঃ -৪ ব্যক্তিগত কার্যক্রম

ধাপঃ -৫

কেমন সঙ্গী খুঁজছেন তা এই  ধাপে আপনাকে উল্ল্যেখ করতে হবে

ধাপঃ -৬

আপনার সম্প্রতি তোলা স্পষ্ট একটি ছবি আপলোড করতে হবে

উপরের সবগুলো ধাপ শেষ করার পর আপনার Activation Status হবে Pending এজন্য আপনাকে বিবাহবিডি কাষ্টমার কেয়ারের  Verification কলের জন্য wait করতে হবে কেননা আপনার প্রদত্ত সবগুলো তথ্য কাষ্টমার কেয়ার যাচায় করবে । আপনি যদি অতিদ্রুত প্রোফাইলটি Active করতে চান তবে নিচের নাম্বার গুলোতে ফোন করে কাষ্টমার কেয়ারের  সথে কথা বলুন। বিঃদ্রঃ সিরিয়াল অনুযায়ী  Verification Call পেরে বিলম্ব হতে পারে ।

Phone : (02) 9331172, 9352508
Hotline : +88 01922 11 5555

বিশেষ বিবাহ আইন

বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করতে চাইলে পাত্র ও পাত্রীকে একজন আইনজীবীর শরণাপন্ন হতে হবে ৷ আইনজীবীর তত্ত্বাবধানে প্রস্তুতকৃত হলফনামায় পাত্র-পাত্রী স্বাক্ষর দানের পর ওই হলফনামা নোটারি পাবলিক কর্তৃক নোটরাইজড করতে হবে ৷ হলফনামায় অবশ্যই ‘বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে’ শব্দগুচ্ছ লিখতে হবে ৷ অতঃপর সরকার অনুমোদিত বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের কাছে নির্ধারিত ফরম পূরণপূর্বক ৩ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয় ৷ উল্লেখ্য, বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ের ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথা এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার বাহুল্যতা নেই ৷

বিশেষ বিবাহ আইন : ১৮৭২ সালের বিশেষ বিবাহ আইনানুসারে যেসব ব্যক্তি খ্রিস্টান, ইহুদি, হিন্দু, মুসলিম, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্ম গ্রহণ করেননি, তাদের জন্য বিয়ের একটি ধরন নির্ধারণ করা এবং যেসব বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেসব সুনির্দিষ্ট বিয়ের বৈধতা প্রদান করা সমীচীন ৷ বিশেষ বিবাহ আইনে বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলী বিশেষ বিবাহ আইনের ২ ধারা মোতাবেক বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলী নিম্নরূপ-

(ক) বিয়ের সময় বিয়ের পক্ষগণের মধ্যে কারোই কোনও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী থাকতে পারবে না,
(খ) গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা অনুসারে পুরুষ ব্যক্তির বয়স ১৮ বছর এবং মহিলার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হতে হবে,
(গ) পক্ষগণ রক্ত সম্পর্কে বা বৈবাহিক সম্পর্কে সম্পর্কযুক্ত হতে পারবেন না, যাতে তাদের একজনের ওপর প্রযোজ্য আইন দ্বারা ওই বিবাহ অবৈধ হতে পারে৷

বিয়ে যেভাবে সম্পন্ন করতে হবে বিশেষ বিবাহ আইনের ১১ ধারা মোতাবেক বিয়ে সম্পন্ন করতে হবে রেজিস্ট্রার এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদানকারী তিনজন সাক্ষীর সম্মুখে৷ উল্লেখ্য, পক্ষগণকে রেজিস্ট্রার ও সাক্ষীগণের উপস্থিতিততে বলতে হবে ‘আমরা পরস্পর পরস্পরকে আইনসঙ্গত স্ত্রী অথবা স্বামী হিসেবে গ্রহণ করলাম ৷’   ১১ ধারার বিধানাবলী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে [১৮ ডিএলআর (১৯৬৬) পাতা ৫০৯] ৷সহ-উত্তরাধিকারিত্বের ওপর কতিপয় বিয়ের ফলাফল হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্মাবলম্বী কোনও যৌথ পরিবারের কোনও সদস্যের এ আইন মোতাবেক বিয়ে হলে অনুরূপ পরিবার থেকে তার বন্ধন ছিন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে (২২ ধারানুসারে) ৷ বাংলাদেশে বিশেষ বিবাহ আইন বাংলাদেশের কোনও মুসলিম, খ্রিস্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন নন বা তাদের একজন যে কোনও এটি বা অন্য ধর্মে বিশ্বাসী তাদের মধ্যে বিয়ের ব্যবস্থা করতে হলে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন উপযুক্ত নিয়মাবলী অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক ৷

এক্ষেত্রে একজন আইনজীবী কর্তৃক হলফনামা সম্পাদনের পর ওই হলফনামা নোটারাইজড করে বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রারের উপস্থিতিতে সমুদয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে ৷

ব্রাহ্ম সমাজের সিদ্ধান্ত : ব্রাহ্ম সমাজভুক্ত ব্যক্তিরা হিন্দু কিনা, তারা হিন্দু না হলে তাদের বিবাহরীতি পদ্ধতি কিভাবে হিন্দুমতে সম্পন্ন হবে ৷ যদি তাই হয় তাহলে ব্রাহ্ম সন্তানরা কোন আইনে উত্তরাধিকারের অধিকার পাবেন? এসব প্রশ্নের সমাধানকল্পে এগিয়ে আসেন ব্রাহ্ম সমাজের প্রতিষ্ঠাতা কেশবচন্দ্র সেন ৷ তিনি ঘোষণা দেন, সর্বধর্ম সমন্বয়ক হিসেবে যে কোনও ধর্মের লোক ব্রাহ্ম সমাজের সদস্য হতে পারেন ৷ সেক্ষেত্রে কোনও মুসলিম কিংবা খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী যদি ব্রাহ্মের দীক্ষা নেন, তাহলে কোন বিধিতে তাদের বিবাহকার্য সম্পন্ন হবে ৷ এসব সমস্যার আইনগত সমাধানের জন্য কেশবচন্দ্র সেন উদ্যোগী হন ৷ ১৮৬৭ সালের ২০ অক্টোবর ভারতবর্ষীয় ব্রাহ্ম সমাজের এক অধিবেশনে তিনি ব্রাহ্ম বিবাহ বিধিবদ্ধ করার উত্কৃষ্ট উপায় নির্ধারণের জন্য ব্রাহ্মদের কাছে আবেদন জানান, ১৯৬৮ সালে সিভিল ম্যারেজ বিল উত্থাপন করলে সরকার সমর্থিত এ বিলে বলা হয়, ‘যদি কোনো ব্যক্তি হিন্দু অথবা মুসলমান অথবা ভারতবর্ষে প্রচলিত অন্য কোনও ধর্মাশ্রিত হয়ে সেই ধর্ম অবিশ্বাস করেন এবং সেই ব্যক্তি ওই ধর্ম প্রকাশ্যরূপে পরিত্যাগ না করে ওই ধর্মের বিবাহ পদ্ধতি অনুসারে বিবাহ করেন, তাহলে সেই বিবাহ আদালতে বৈধ বলে গণ্য হবে ৷’ কিন্তু এ ব্যাপা তত্কালীন সমাজে প্রবল মতবিরোধ দেখা দেয় ৷ ফলে এ আইন বিধিবদ্ধ না হয়ে পুনর্বিবেচনার জন্য পর্যালোচনা কমিটিতে পাঠানো হয় ৷

পর্যালোচনা কমিটি দীর্ঘ ২ বছর নানা দিক বিবেচনা করে ‘ব্রাহ্ম ম্যারেজ অ্যাক্ট’ প্রণয়রে সুপারিশ করে ৷ অবশেষে নানা যুক্তিতর্ক, বাদানুবাদ ও শঙ্কা আশঙ্কার পর ১৮৭২ সালে ব্রাহ্ম বিবাহ বিধি সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্ট নামে পাস হয় ৷ ব্রাহ্ম সমাজের বৈশিষ্ট্য হল- সাবালক পাত্র-পাত্রীরা ব্রাহ্ম সমাজ মন্দিরে উপস্থিত হয়ে স্ব স্ব ধর্মে বহাল থেকে ব্রাহ্ম রীতিতে সিভিল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিবাহ করতে পারেন ৷ মন্দিরের আচার্য বিবাহে পৌরহিত্য করলেও তা রেজিিস্ট্র করে থাকেন সিভিল ম্যারেজ রেজিস্ট্রার ৷ ওই রেজিস্ট্রার বাংলাদেশ ব্রাহ্ম সমাজ ও আইনগতভাবে নিয়োগকৃত হতে হবে ৷ ব্রাহ্ম বিবাহে সংস্কৃতের পরিবর্তে বাংলায় মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয় ৷ বিবাহ শেষে উপস্থিত অতিথিরা প্রার্থনা সভায় অংশ নেন এবং ব্রাহ্ম সংগীত গেয়ে বর-কনের মঙ্গল কামনা করেন ৷ এই প্রকার বিয়েতে যৌতুক প্রথা ও অতিথি আপ্যায়নের বাহুল্য নেই ৷

জানা যায়, ১২৮১ বঙ্গাব্দের বৈশাখে ব্রাহ্ম সমাজভুক্ত মুসলিম যুবক জালালউদ্দিন মিয়া ব্রাহ্ম বিবাহরীতিতে প্যারী বিবিকে বিয়ে করে সর্বত্র হৈচৈ ফেলে দেন ৷ ঢাকার ঐতিহাসিক সদরঘাট ও কোতোয়ালি থানার উত্তরে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজিয়েট হাইস্কুল সংলগ্ন পাটুয়াটুলী রোডের ২-৪ লয়াল স্ট্রিটে বালাদেশ ব্রাহ্ম সমাজ কার্যালয়ে দেশের একমাত্র সিভিল ম্যারেজ রেজিস্ট্রার রেভারেন্ড প্রাণেশ সমাদ্দার বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন৷

সিভিল ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ৮৪ বছর বয়সী প্রাণেশ সমাদ্দার জানান, পাত্র-পাত্রীর পরস্পরের ধর্মীয় বিশ্বাস পৃথক হলে তারা যদি স্ব স্ব ধর্ম পালন করে বিয়ে করতে চায় তবে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে কার্য সম্পন্ন করতে হবে ৷ এ জন্য ৫০০০ টাকা এবং ৩ জন সাক্ষীর প্রয়োজন৷ বিশেষ বিবাহ রেজিস্ট্রার প্রাণেশ সমাদ্দারের চেম্বার সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রামের মেয়ে ফাল্গুনী বড়ুয়া এবং যাত্রাবাড়ীর শহীদ হোসেন রোডের (হালে কর্ণফুলী গার্ডেন সিটি) মোস্তফা ভূইয়ার ছেলে মঞ্জুরুল প্রায় দুই মাস আগে বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ের সিঁড়িতে বসে ৷ ফাল্গুনী আর মঞ্জুরুলের মতো অনেকেই এভাবে যে যার ধর্ম বিশ্বাস ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ঠিক রেখে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছে ৷

প্রাণেশ সমাদ্দার জানান, প্রতিবছর ৮/১০টি বিয়ে পড়ান তিনি ৷ দু’জনার ধর্ম দুটি হলেও সারাজীবন একত্রে জীবনসঙ্গী হিসেবে বসবাস করার জন্য বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করার বিকল্প নেই৷

বিশেষ বিবাহ আইনের অধীন বিয়ে করার সুযোগ আছে বলে স্বধর্মের উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীকে বিয়ে না করে ভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসীদের বিয়ে করার মানসিকতাকে এড়িয়ে চলার উদাত্ত আহ্বান জানাই ৷ বিশেষ বিবাহ আইনটি যুগোপযোগী করে সংশোধন করা দরকার ৷ তাছাড়া ম্যারেজ রেজিস্ট্রার নিয়োগ এবং কার্যকর পদ্ধতিতে বিয়ে সম্পন্ন করার বিষয়গুলো আরও সহজ ও স্বচ্ছ হওয়া দরকার ৷ আমাদের বিশ্বাস সরকার বিষয়গুলো নিয়ে ভাববে৷

বিশেষ বিবাহ আইন
খন্দকার মুজাহিদুল হক | তারিখ: ৩১-০১-২০১০ | প্রথম আলো

বাংলাদেশে বিশেষ বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশেষ বিবাহ আইন, ১৮৭২’ অনুযায়ী। কিন্তু এ বিয়ে কাদের জন্য প্রযোজ্য, বিয়ে অনুষ্ঠানের শর্তাবলি কী, সম্পাদনের পদ্ধতি কী, কার দ্বারা এ বিয়ে সম্পাদন হবে, এ বিয়ের ফলে জন্ম নেওয়া সন্তান কোন ধর্মের পরিচয়ে বড় হবে, এ বিয়ের স্বামী বা স্ত্রী কোন ধর্ম অনুসরণ করবেন, এ বিয়ের ফলে উত্তরাধিকার কে কতটুকু ভোগ করতে পারবেন প্রভৃতি বিষয় অনেকের কাছেই অস্পষ্ট।

যেসব ব্যক্তি মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্ম গ্রহণ করেননি, তাঁদের মধ্যে এ বিয়ে হতে পারে। এ ছাড়া যেসব ব্যক্তি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্ম গ্রহণ করেছেন, এ আইন দ্বারা তাঁদের জন্য বিয়ের বিকল্প একটি ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন, যেসব বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেসব সুনির্দিষ্ট বিয়ের বৈধতা দেওয়া হয়েছে এ আইন দ্বারা।

‘বিশেষ বিবাহের ক্ষেত্রে ধর্ম ত্যাগ করা অত্যাবশ্যক। দুই পক্ষই ধর্ম ত্যাগ না করলে বিয়েটি বাতিল বলে গণ্য হবে। এ আইনের বিধানে যেকোনো ধরনের মিথ্যা বর্ণনা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আবেদনকারী যদি বাস্তবে ধর্ম ত্যাগ না করে থাকেন, সে ক্ষেত্রে ধার্য হয়েছে—তিনি মিথ্যা বর্ণনা দিয়েছেন।’ [(১৯৬৬) ১৮ ডিএলআর ৫০৯]

বাংলাদেশে মুসলিম কোনো ব্যক্তি ইচ্ছা করলে অন্য ধর্মের কোনো ব্যক্তিকে মুসলিম আইন অনুযায়ীই বিয়ে করতে পারেন। যদি অন্য পক্ষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তবে কোনো সমস্যাই নেই, অর্থাত্ বিয়েটি ‘বৈধ বিয়ে’। আর যদি অন্য পক্ষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ নাও করেন, তবু মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়ে করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে বিয়েটি ‘অনিয়মিত’ হবে।

খ্রিষ্ট ধর্মের ক্ষেত্রেও কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। অন্য পক্ষ খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করলে কোনো সমস্যাই নেই। তবে অন্য পক্ষ খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ না করলে খ্রিষ্টান পারিবারিক আইন অনুযায়ী বিয়েটি ‘অনিয়মিত’ বিয়ে হবে।

বিয়ে সম্পাদনের ইচ্ছা পোষণ করলে দুই পক্ষের কোনো একজনকে অবশ্যই নিবন্ধক বরাবর লিখিত নোটিশ দিতে হবে। যে জেলার নিবন্ধক বরাবর নোটিশ প্রদান করবেন, নোটিশ প্রদানকারীকে অবশ্যই নোটিশ দেওয়ার কমপক্ষে ১৪ দিন আগে থেকে সেখানে বসবাস করতে হবে। নিবন্ধককে অবশ্যই ওই জেলার হতে হবে, যে জেলায় দুই পক্ষের অন্তত কোনো একজন নোটিশ দেওয়ার কমপক্ষে ১৪ আগে থেকে বসবাস করছেন।

বিয়ের প্রত্যয়নপত্র: বিয়ে সম্পাদনের পর নিবন্ধক ‘বিবাহ প্রত্যয়ন বই’য়ে প্রত্যয়নপত্র অন্তর্ভুক্ত করবেন, যা নির্ধারিত একটি ফরম। এবং এটি উভয় পক্ষ ও তিনজন সাক্ষী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হবে।

নিবন্ধক সরকার-নির্ধারিত ফরমে ‘বিবাহ প্রত্যয়ন বই’য়ে লিপিবদ্ধ সব অন্তর্ভুক্তির অনুলিপি তাঁর জেলার ‘জন্ম, মৃত্যু ও বিয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল’-এর কাছে পাঠাবেন।

জন্মগ্রহণকারী সন্তানের বিবাহ: এ আইনের অধীনে বিয়ের ফলে জন্মগ্রহণকারী সন্তান যদি এ আইনের অধীনেই বিয়ের ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে তাঁর পিতা বিয়ের ক্ষেত্রে যে আইনে রক্ত-সম্পর্কীয় ও বৈবাহিক সম্পর্কীয় বাধার সম্মুখীন ছিলেন, সে আইন এবং এ আইনের ২ ধারা তাঁর ওপর প্রযোজ্য হবে। এ আইনের কোনো কিছুই এ আইনের অধীনে বিয়ের ফলে জন্মগ্রহণকারী সন্তানের অন্য কোনো আইনে সম্পাদিত বিয়ের বৈধতা ক্ষুণ্ন করবে না।

মিথ্যা বর্ণনা-সংবলিত ঘোষণার প্রত্যয়নপত্র স্বাক্ষরের শাস্তি: এ আইন দ্বারা নির্দেশিত কোনো ঘোষণা বা প্রত্যয়নপত্র তৈরি করেন, স্বাক্ষর করেন বা সত্যায়ন করেন, যা মিথ্যা বর্ণনা, এবং তিনি জানেন ও বিশ্বাস করেন মিথ্যা বলে, বা সত্য বলে বিশ্বাস করেন না, এমন কোনো ব্যক্তি দণ্ডবিধির ১৯৯ ধারায় অপরাধী বলে বিবেচিত হবেন। সহ-উত্তরাধিকারিত্বের ওপর ফলাফল: হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈন ধর্মে বিশ্বাসী কোনো পরিবারের কোনো সদস্যের এ আইনে বিয়ে হলে তিনি ওই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন বলে গণ্য হবেন।

উত্তরাধিকারের অধিকার: হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈন ধর্মে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি এ আইনে বিয়ে করলে, ‘জাতিগত অসামর্থ্যতা দূরীকরণ আইন, ১৮৫০’ প্রযোজ্য হয় এমন ব্যক্তির মতো তাঁরও সম্পত্তির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে একই অধিকার থাকবে এবং তিনি একই রকম অসামর্থ্যতার অধীন হবেন। তবে শর্ত হচ্ছে, এ ধারার কোনো কিছুই ওই ব্যক্তিকে ধর্মীয় পদ বা চাকরির, বা কোনো ধর্মীয় বা দাতব্য ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনার কোনো অধিকার প্রদান করবে না।

সম্পত্তির উত্তরাধিকার: হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ ও জৈন ধর্মে বিশ্বাসী কোনো ব্যক্তি, যিনি এ আইনের অধীন বিয়ে করেছেন, তাঁর সম্পত্তির, এবং এ বিয়ের ফলে জাত সন্তানের সম্পত্তির উত্তরাধিকার ‘উত্তরাধিকার আইন, ১৯২৫’  অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে। ওই দুই ব্যক্তির মধ্যে এ বিয়ে হতে পারে, যাঁদের কেউই মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান, ইহুদি, পার্সি, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্মে বিশ্বাস করেন না। কিংবা ওই দুই ব্যক্তির মধ্যে এ বিয়ে হতে পারে, যাঁদের প্রত্যেকেই এর একটি বা অন্য ধর্মে বিশ্বাস করেন— হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন। এ ছাড়া যেসব ব্যক্তি হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ বা জৈন ধর্মে বিশ্বাসী, এ আইন দ্বারা তাঁদের জন্য বিয়ের বিকল্প একটি ধরন নির্ধারণ করা হয়েছে। আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন, যেসব বিয়ের বৈধতা সম্পর্কে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে, সেসব সুনির্দিষ্ট বিয়ের বৈধতা দেওয়া হয়েছে এ আইন দ্বারা।

মানব ইতিহাস লক্ষ করলে দেখা যায়, প্রাচীন সমাজে নারীদের মান-মর্যাদার প্রতি কোনো গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সমাজে তখন নারীর অধিকার ও মর্যাদা ছিল না। ইসলাম ধর্মের বিধান অনুযায়ী বিবাহের মাধ্যমে নারীর মর্যাদা ও গুরুত্ব সংরক্ষিত হয়। ইসলাম নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করে নারী জাতিকে মানবিক উন্নতি ও প্রগতির বুনিয়াদ ঘোষণা করেছে। ইসলাম ঘোষণা করে_সমাজে পুরুষের মতোই নারীর অধিকার রয়েছে। তাই বিবাহ বন্ধনের মাধ্যমেই নারী-পুরুষের অধিকার নিশ্চিত হয়।

মুসলিম পারিবারিক আইন : মুসলিম পারিবারিক আইন ইসলামী শরিয়তের দ্বারা বিধিবদ্ধ হয়েছে। তবে যুগের বিবর্তনে এবং ক্রমোন্নতির সঙ্গে সঙ্গে সরকারিভাবে আইন ও বিধির দ্বারা কিছু কিছু নীতি নির্ধারিত হয়ে থাকে, এসব আইন, বিধি ও নীতিমালার প্রণয়ন যুগের প্রত্যক্ষ চাহিদা। আর এ লক্ষ্যে ১৯৬১ সালে প্রণীত হয়েছে মুসলিম বিবাহ আইন। যাতে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন আইনে বৈধ বিবাহের অবশ্য পূরণীয় শর্তগুলো:

বিবাহের যোগ্যতা : বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়কে অবশ্যই প্রাপ্তবয়স্ক/বয়স্কা এবং সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুরুষের বয়স নূন্যতম ২১ বছর এবং স্ত্রীলোকের বয়স নূন্যতম ১৮ বছর হতে হবে।

প্রস্তাব দান এবং কবুল : বিবাহ করতে ইচ্ছুক পক্ষদ্বয়ের মধ্যে এক পক্ষকে প্রস্তাব দিতে হবে এবং অপর পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করতে হবে। প্রস্তাব দান ও গ্রহণ একই মজলিসে কমপক্ষে দুজন প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন পুরুষ সাক্ষী কিংবা একজন পুরুষ ও দুজন মহিলা সাক্ষীর সামনে হতে হবে। এটিই বিবাহ বন্ধন সংগঠিত হওয়ার মূল শর্ত।

সম্মতি : বিবাহের জন্য পাত্র এবং পাত্রীর স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতির প্রয়োজন। বল প্রয়োগে সম্মতি আদায়ে বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হবে।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন : বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুসারে সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নিকাহ্ রেজিস্ট্র্রার দ্বারা অবশ্যই বিবাহ রেজিস্ট্র্রি করাতে হবে।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন ফি : সরকার গেজেট নোটিফিকেশন দিয়ে বিবাহের ফি নির্ধারণ করেছে। বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন ফি দেনমোহরের ওপর নির্ধারণ হয়ে থাকে। দেনমোহরের প্রতি হাজারে ১০ টাকা হারে ফি নিকাহ্ রেজিস্ট্র্রাররা সরকার নির্ধারিত রশিদ প্রদানের মাধ্যমে গ্রহণ করে থাকেন। দেনমোহর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ফি চার হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবাহ রেজিস্ট্র্রি না করার ফলাফল : যেহেতু ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের বিধান অনুযায়ী প্রতিটি মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্র্রি করা বাধ্যতামূলক। বিবাহ রেজিস্ট্র্রি না করলে নিম্নলিখিত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় :

১. সরকার নিযুক্ত নিকাহ্ রেজিস্ট্র্রার কর্তৃক বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হলে সম্পত্তির উত্তরাধিকারের বিবাদ-বিসংবাদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
২. বিবাহ রেজিস্ট্রি না হাওয়ায় বিবাহের বৈধতার ক্ষেত্রে দলিলগত সাক্ষীর অভাব ঘটে, ফলে বিবাদ নিষ্পত্তি করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
৩. বিবাহ রেজিস্ট্রেশন না হওয়ার ফলে মৃতের সন্তানদের উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বৈধতার প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
৪. বিবাহ রেজিস্ট্র্রেশন না হলে স্ত্রী কর্তৃক স্বামীর বিরুদ্ধে খোরপোষ ও মোহরানার দাবির মামলা অগ্রাহ্য বলে গণ্য হতে পারে।

বিবাহের দেনমোহর : দাম্পত্যজীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেনমোহর। দেনমোহর বিবাহের একটি অত্যাবশ্যকীয় শর্ত। বিবাহের রেজিস্ট্র্রেশনের সময় দেনমোহর ধার্য করতে হবে। স্ত্রী স্বামীর কাছ থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী হবে।

বিবাহের সময় প্রতিদানস্বরূপ বর কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দিতে সম্মত অথবা গৃহীত কোনো সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে মোহর বলে। মোহরপ্রাপ্তির অধিকার সম্পূর্ণরূপে স্ত্রীর। মোহরানা বলতে এমন অর্থ সম্পদ বুঝায়, যা বিয়ের বন্ধনে স্ত্রীর ওপর স্বামীত্বের অধিকার লাভের বিনিময়ে স্বামীকে আদায় করতে হয়।

মোহরানা স্বামীর কোনো করুণা নয়, না কোনো সামাজিক ট্রাডিশন। স্ত্রীর মোহরানা দেওয়ার জন্য আল্লাহ তায়ালার যে নির্দেশ তা নামাজ রোজার মতোই একটি নির্দেশ। স্ত্রীর মোহরানার অর্থ আদায় করা স্বামীর ওপর যেমন অবশ্য কর্তব্য, তেমনি তা ইবাদতও।

ইসলামী শরিয়তের বিধান মোতাবেক মোহর আদায় প্রতিটি স্বামীর জন্য ফরজ। দেনমোহর স্বামীর জন্য একটি ঋণ, সর্বাবস্থায় দেনমোহর পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। রাসুল (সা.) বলেছেন_’যে ব্যক্তি কোনো মেয়েকে মোহরানা দেওয়ার ওয়াদায় বিয়ে করেছে, কিন্তু সে মোহরানা আদায় করতে তার ইচ্ছে নেই, কেয়ামতের দিন সে আল্লাহর সামনে অপরাধী হিসেবে দাঁড়াতে বাধ্য হবে’ (মুসনাদে আহমদ)।

অনেক স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে যে সম্পর্কের শুরু নানা কারণে সেই সম্পর্কের সুর বদলায়, ভাঙন ধরে। মা-বাবার সম্পর্কের টানাপড়েনে সবচেয়ে বেশি আঘাত লাগে কোমল শিশুমনে! নতুন জীবনে মানিয়ে নিতে সন্তানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে আপনাকেই। ডিভোর্সের ঝামেলা কাটিয়ে ওঠার জন্য জরুরি পরামর্শ। এ বিষয়ে লিখেছেন_ খুরশীদা রহমান চৈতী

বাচ্চার সামনে সিনক্রিয়েট করবেন না। কথা কাটাকাটির সময়ই কটূক্তি বা একে অপরকে অনর্থক দোষারোপ করলে সন্তানের কাছে নিচু হয়ে যাবেন। বিচ্ছেদের জন্য তাহলে ও আপনাকেই দোষী সাব্যস্ত করবে। ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সন্তানের সঙ্গে একান্তে আলোচনায় বসুন। সহজ ভাষায় কাউকে দোষ না দিয়ে আপনাদের মতানৈক্য এবং আলাদা থাকার সিদ্ধান্তের কথা ওকে জানান। সঙ্গে সঙ্গে এও জানাতে ভুলবেন না যে, আপনাদের সম্পর্কে চিড় ধরলেও ওর প্রতি ভালোবাসায় কোনো ঘাটতি নেই। বাবা-মায়ের সঙ্গে ছেলেমেয়ের যে কখনো ডিভোর্স হতে পারে না, সেটা ওর মনে গেঁথে দিন।

বাচ্চার কাস্টডি নিয়ে আলোচনা, আইনি মারপ্যাঁচ থেকে ওকে আড়াল করুন। আদালত বাচ্চার মতামত জানতে চাইলে ও যাতে নির্ভয়ে মনের কথা খুলে বলতে পারে সেদিকে লক্ষ রাখুন।

অনেক সময় নিজেকে বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণ ধরে নিয়ে বাচ্চারা অপরাধবোধে ভোগে। কোনো অসতর্ক মুহূর্তেও ডিভোর্সের সঙ্গে বাচ্চাকে জড়াবেন না। ওর সামনে নিজেদের দাম্পত্য জীবনের ব্যর্থতা, স্বামীর চরিত্র, শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের সমালোচনা করবেন না। ও যদি এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলে, তাহলে বনিবনার অভাব, মতের পার্থক্যের দিকটা যতটা সম্ভব যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চেষ্টা করুন।

বিচ্ছেদের পর বাচ্চার সঙ্গে আপনার সম্পর্কটা যাতে আরও নিবিড় হয়ে ওঠে, সেদিকে নজর দিন। এতে আপনার মনের কষ্টও অনেকটা লাঘব হবে। এই সময়ে অনেকেই বাড়ি শিফট করেন, নতুন পরিবেশে, নতুন মানুষজনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াটা বাচ্চার পক্ষে খুবই কঠিন হতে পারে। সে জন্য পদে পদে আপনার সাহায্য প্রয়োজন। ওর জেদ, কান্নাকাটি, অভিমান_ সবই ধৈর্য ধরে ট্যাকল করতে হবে এই সময়। বাচ্চার স্কুলের টিচার বা অন্য ভালোবাসার মানুষজনের কাছ থেকে সাহায্য নিন। সম্ভব হলে একে নিয়ে কিছুদিনের জন্য কাছে পিঠে ঘুরে আসুন।

যদি বাচ্চা আপনার সঙ্গে নাও থাকে, তাহলেও প্রতিদিন অন্তত একবার ফোন করে ওর সঙ্গে কথা বলুন। উইক অ্যান্ডে বা ভ্যাকেশনে দু’জনে একসঙ্গে সময় কাটান। নিজের সময়ের অভাবটা কখনোই গিফট দিয়ে পূরণ করতে চেষ্টা করবেন না। বাচ্চারা খুব সহজেই আপনার এই দুর্বলতার জায়গা বুঝে ফেলবে। জন্মদিন বা উৎসবে উপহার অবশ্যই দেবেন, তবে নিজের সাধ্যের মধ্যে। স্কুলের প্যারেন্ট-টিচার মিটিং, টিউটরদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা হবি ক্লাসের খোঁজখবর নিলেও বাচ্চার মনের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবেন।

আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধব এবং কলিগদের নিয়ে একটা ফ্রেন্ডশিপ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন। শ্বশুরবাড়ির পক্ষের ভালোবাসার মানুষজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবেন না। প্রত্যেকের সঙ্গে শিশুকে খোলা মনে মিশতে দিন। বাড়িতে মাঝে মাঝে দু’একজনকে নিমন্ত্রণ করুন। ছুটির দিনে বাচ্চাকে নিয়েও ওদের বাড়ি যান। সবার কাছ থেকে ভালোবাসা এবং সাপোর্ট পেলে ও কখনো ইনসিকিওরবোধ করবে না। সপ্তাহের একটা দিন কয়েক ঘণ্টা দু’জনে কাটান। দু’জনে মিলে একটি শক্ত রান্না আয়ত্তে আনুন, রাস্তার পশুপাখিদের খেতে দিন বা নতুন একটা গেম খেলুন। মাঝে মাঝে বাচ্চার ৩-৪ জন বন্ধুকে ডেকে নিয়ে ছোট্ট পার্টিও অ্যারেঞ্জ করতে পারেন। পার্টির প্রস্তুতির দায়িত্ব সমানভাবে ওকেও দিন। স্যান্ডউইচ বানানো, মিল্ক শেক তৈরি করা, গেমস ঠিক করার মতো ইন্টারেস্টিং কাজগুলো ওকেই করতে দিন। হয়তো অজস্র ভুল হবে কিন্তু এভাবেই ও ধীরে ধীরে রেসপনসিবল হয়ে উঠবে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনে প্রকাশিত

মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করিবার জন্য আইন ]

যেহেতু মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করা সমীচীন;

সেহেতু উহা এতদ্বারা নিম্নরূপ বিধিবদ্ধ করা হইলঃ

১। সংক্ষিপ্ত শিরোণাম ও প্রয়োগ :
(১) এই আইন মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইন, ১ঌ৭৪ বলিয়া অভিহিত করা যাইতে পারে।
(২) বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকদের উপর যেখানেই তাহারা থাকুক না কেন, ইহা প্রযোজ্য হইবে।

২। সংজ্ঞা সমূহ : এই আইনে যদি বিষয়ে বা প্রসঙ্গে পরিপন্থী কোন কিছু না থাকে তাহা হইলেঃ-
(ক) মহা-নিবন্ধন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর জেনারেল অব রেজিষ্ট্রশন) ও নিবন্ধক (রেজিষ্টার) বলিতে যথাক্রমে ১ঌ০৮ সনের রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৯০৮ সনের ১৬) অধীনে ঐরূপ পদনামযুক্ত ও নিযুক্ত অফিসারদেরকে বুঝায়।
(খ) নির্ধারিত বলিতে এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত বুঝায়।
৩। বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ : অন্য যে কোন আইন, প্রথা বা রীতিতে যে কোন কিছু থাকা সত্ত্বেও মুসলিম আইন অনুযায়ী অনুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের বিধানাবলী অনুযায়ী রেজিষ্ট্রী করতে হবে।

৪। নিকাহ নিবন্ধক : এই আইনের অধীন বিবাহসমূহ রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে সরকার যেরূপ বিধিনির্দিষ্ট করিতে পারেন সেরূপ এলাকার জন্য যেরূপ প্রয়োজনীয় গণ্য করিতে পারে সেরূপ সংখ্যক নিকাহ নিবন্ধক বলিয়া অভিহিত ব্যক্তিকে অনুজ্ঞাপত্র মঞ্জুর করিবেন।

তবে শর্ত থাকে যে অনধিক একজন নিকাহ নিবন্ধক যে কোন একটি এলাকার জন্য অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত হইবে।

৫। নিকাহ নিবন্ধকগণ কর্তৃক অনানুষ্ঠিত বিবাহ সম্পর্কে তাহাদের নিকট প্রতিবেদন করিতে হইবে :
(১) নিকাহ নিবন্ধক কর্তৃক অনানুষ্ঠিত প্রত্যেক বিবাহ এই আইনের অধীনে রেজিষ্ট্রীকরণের উদ্দেশ্যে তাহার নিকট এইরূপ বিবাহ অনুষ্ঠিত করিয়াছেন এমন ব্যক্তি কর্তৃক প্রতিবেদন পেশ করিতে হইবে।
(২) যে কেহ (১) উপ-ধারার বিধান লংঘন করিলে সে তিন মাস পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য মেয়াদের বিনাশ্রম কারাবাসে বা পাঁচশত টাকা পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য জরিমানায় বা উভয়বিধে শাস্তিযোগ্য হইবেন।
৬। তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ :
(১) কোন নিকাহ নিবন্ধক এখতিয়ারের মধ্যে মুসলিম আইন অনুযায়ী কার্যকরীকৃত তালাক রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য তাহার নিকট পেশকৃত আবেদন পত্রের ভিত্তিতে উহা রেজিষ্ট্রী করিতে পারেন।
(২) তালাক রেজিষ্ট্রিকরণের জন্য আবেদন তালাক কার্যকরী করিয়াছেন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ কর্তৃক মৌখিকভাবে পেশকৃত হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, যদি মহিলা পর্দানশীল হন তাহা হইলে ঐরূপ আবেদন তাহার যথাযথভাবে কর্তৃত্বপ্রাপ্ত উকিল কর্তৃক পেশ করা যাইতে পারে।

(৩) ১ঌ০৮ সনের রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৯০৮ সনের ১৬) অধীনে রেজিষ্ট্রীকৃত যে দলিলমুলে স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করিয়াছিল উক্ত দলিল অথবা ঐরূপ অর্পন করা হইয়াছে বলিয়া বিবাহ রেজিষ্ট্রী খাতায় অন্তভুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি দাখিলকরণের ভিত্তিতে ব্যতীত নিকাহ নিবন্ধক তালাক-ই-তৌফিজ হিসাবে পরিচিত ধরনের কোন তালাক রেজিষ্ট্রী করিবেন না।
(৪) যেক্ষেত্রে নিকাহ নিবন্ধক কোন তালাক রেজিষ্ট্রী করিতে অস্বীকার করেন, সেক্ষেত্রে ঐরূপ রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য আবেদন করিয়াছিল এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিগণ উক্ত অস্বীকৃতির ত্রিশ দিনের মধ্যে নিবন্ধকের নিকট আপীল পেশ করিতে পারেন এবং উক্ত আপীলের উপর নিবন্ধক কর্তৃক প্রদত্ত আদেশ চূড়ান্ত (বলিয়া গণ্য) হইবে।
৭। রেজিষ্ট্রীকরণের পদ্ধতি : নিকাহ নিবন্ধক নির্ধারিত পদ্ধতিতে কোন বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রী করিবেন।

৮। রেজিষ্ট্রী খাতা : প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক নির্ধারিত ফরমে বিবাহ ও তালাকের পৃথক রেজিষ্ট্রী খাতা রাখিবেন এবং ঐরূপ প্রত্যেক রেজিষ্ট্রী খাতায় প্রত্যেক বত্সরের শুরুতে নতুন সারির সূচনা ক্রমে সকল ভুক্তি ক্রমিক সারিতে সংখ্যাযুক্ত (করিতে) হইবে।

৯। পক্ষগণকে ভুক্তির প্রতিলিপি দিতে হইবে : কোন বিবাহ বা তালাকের রেজিষ্ট্রীকরণ সম্পূর্ন হওয়ার পর নিকাহ নিবন্ধক সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে খাতায় ভুক্তির সত্যায়িত প্রতিলিপি অর্পণ করিবেন এবং ঐরূপ প্রতিলিপির জন্য কোন খরচ আদায় করা হইবে না।

১০। নিয়ন্ত্রন ও তত্ত্বাবধান :
(১) প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক তাহার অফিসের কর্তব্যাবলী নিবন্ধকের অধীক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের অধীনে পালন করিবেন।
(২) মহা-নিবন্ধন পরিদর্শক সকল নিকাহ নিবন্ধকগণের অফিসের উপর সাধারণ অধীক্ষণ চালাইবেন।
১১। অনুজ্ঞাপত্রের সংহরণ ও নিলম্বন : যদি সরকার বিশ্বাস করেন যে, নিকাহ নিবন্ধক তাহার কর্তব্যাবলী পালনে কোন অসদাচনের জন্য দোষী অথবা তাহার কর্তব্যাবলী পালনে অনুপযুক্ত বা দৈহিকভাবে অক্ষম, তাহা হইলে সরকার লিখিত আদেশবলে তাহার অনুজ্ঞাপত্র সংহরণ করিতে পারেন, অথবা আদেশের যেরূপ বিনির্দিষ্ট করা হইতে পারে সেরূপ অনধিক দুই বত্সর মেয়াদের জন্য তাহার অনুজ্ঞাপত্র নিলম্বিত করিতে পারেন।
তবে শর্ত থাকে যে, ঐরূপ কোন আদেশ প্রদান করা হইবে না যদি নিকাহ নিবন্ধককে কেন ঐরূপ আদেশ প্রদান করা হইবে না উহার কারণ প্রদর্শনের যুক্তিসঙ্গত সুযোগ প্রদান করা হয়।

১২। রেজিষ্ট্রী খাতাসমূহের হেফাজত : প্রত্যেক নিকাহ নিবন্ধক ৮ ধারা অনুযায়ী তত্কর্তৃক রক্ষিত প্রত্যেকটি রেজিষ্ট্রী খাতা নিরাপদে রাখিবেন যতক্ষণ না উহা সম্পূর্ণ হয় এবং তিনি সংশ্লিষ্ট জিলা ত্যাগ করিলে বা অনুজ্ঞাপত্র ধারণ করা বন্ধ করিলে তখনই বা তত্পূর্বে নিরাপদ হেফাজতের জন্য নিবন্ধকের নিকট উহা হস্তান্তর করিবেন।

১৩। রেজিষ্ট্রী খাতাসমূহ পরিদর্শন : যে কোন ব্যক্তি নির্ধারিত ফি, যদি থাকে, প্রদানক্রমে নিকাহ নিবন্ধকের বা নিবন্ধকের অফিসে সেখানে রক্ষিত যে কোন রেজিষ্ট্রী খাতা পরিদর্শন করিতে পারেন অথবা উহাতে কোন ভুক্তির প্রতিলিপি পাইতে পারেন।

১৪। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা :
(১) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী কার্যকরী করিবার জন্য বিধি প্রণয়ন করিতে পারেন।
(২) বিশেষ করিয়া এবং পূর্ববর্তী ক্ষমতার সাধারণত্বের হানি না করিয়া উক্ত বিধিমালা-
(ক) যে ব্যক্তিদেরকে ৪ ধারার অধীনে অনুজ্ঞাপত্র মঞ্জুর করা যাইতে পারে তা যাদের জন্য আবশ্যক যোগ্যতা সম্পর্কে,
(খ) বিবাহ বা তালাক রেজিষ্ট্রীকরণের জন্য নিকাহ নিবন্ধককে প্রদেয় কি সম্পর্কে,
(গ) বিধি প্রণয়ন আবশ্যক এমন অন্য যে কোন বিষয় সম্পর্কে বিধান করিতে পারে।
১৫। ১ঌ৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১ঌ৬১ সনের ৮অর্ডিন্যান্স) সংশোধন :
১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের,
(ক) ৩ ধারার (১) উপ-ধারায় কমা ও শব্দাবলী এবং মুসলিম বিবাহ রেজিষ্ট্রীকরণ শুধুমাত্র ঐ সকল বিধানাবলী অনুযায়ী সংঘটিত হইবে বাদ যাইবে।
(খ) ৫ ধারা বাদ যাইবে।
(গ) ৬ ধারার (১) উপ-ধারায় এই আইনের অধীন শব্দসমূহের পরিবর্তে ১ঌ৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রীকরণ) আইনের (১ঌ৭৪ সনের ৫২ নম্বর আইন) অধীন শব্দসমূহ, কমা, অংক ও বন্ধকী বসিবে।
১৬। নিরসন :
১৮৭৬ সনের মুসলিম তালাক রেজিষ্ট্রীকরণ আইনের (১৮৭৬ সনের ১ নং বেঙ্গল আইন) এতদ্বারা নিরসন করা হইল।

১৭। বিদ্যমান নিকাহ নিবন্ধকগণ সম্পর্কিত বিধান :
এই আইনের প্রারম্ভের পূর্বে ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (১৯৬১ সনের ৮) অধীনে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত সকল নিকাহ নিবন্ধকগণ এই আইনের অধীনে নিকাহ নিবন্ধক হিসাবে অনুজ্ঞাপ্রাপ্ত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
মুসিলম বিবাহ আইন
(১৯৩৯ সালের ৮নং আইন) [ ১৯৩৯ সালের ১৭ই মার্চ তারিখে গভর্ণর-জেনারেলের সম্মতিপ্রাপ্ত ]

[ মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের উপর আণীত মামলা সম্পর্কিত মুসলিম আইনের বিভিন্ন ব্যবস্থাবলীর একত্রীকরণ ও পরিস্কার ব্যাখ্যার জন্য এবং বিবাহিতা মুসলমান মহিলার ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগের ফলে তাহার বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রে সৃষ্ট সন্দেহ দূরীকরণার্থে প্রণীত অ্যাক্ট ]।

যেহেতু, মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের উপর আনীত মামলা সম্পর্কিত মুসলিম আইনের বিভিন্ন ব্যবস্থা একত্রীকরণ ও উহাদের পরিস্কার ব্যাখ্যার জন্য এবং বিবাহিতা মুসলমান মহিলার ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগের ফলে তাহার বিবাহ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সৃষ্ট সন্দেহ দূরীকরণার্থে, এক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুভব করা যাইতেছে, সেইহেতু এতদ্বারা নিম্নলিখিত আইন পাশ করা হইতেছে :

১। (ক) সংক্ষিপ্ত শিরোনামঃ অত্র আইনকে ১৯৩৯ সালের মুসলমান বিবাহ বিচ্ছেদ আইন নামে অভিহিত করা যাইতে পারে।
(খ) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য হইবে।

২। বিবাহ বিচ্ছেদের ডিক্রির হেতুবাদঃ

নিম্নলিখিত যে কোন এক বা একাধিক হেতুবাদে মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহিতা কোন মহিলা তাহার বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ডিক্রি লাভের অধিকারিণী হইবেন, যথাঃ
i) চার বছর যাবত্‍ স্বামী নিরুদ্দেশ হইলে;
ii) স্বামী দুই বত্সছর যাবত্‍ স্ত্রীর ভরণ-পোষণ দানে অবহেলা প্রদর্শন করিলে অথবা ব্যর্থ হইলে;
ii-ক) স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থা লঙ্খন করিরা অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করলে;
iii) স্বামী সাত বত্সার বা তদুর্ধ্ব সময়ের জন্য কারাদন্ডে দন্ডিত হইলে;
iv) স্বামী কোন যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত তিন বত্স্র যাবত্‍ তাহার দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইলে;
v) বিবাহকালে স্বামীর পুরুষত্বহীনতা থাকিলে এবং উহা বর্তমানেও চলিতে থাকলে;
vi) দুই বত্সহর যাবত্‍ স্বামী পাগল হইয়া থাকিলে অথবা কুষ্ঠ ব্যাধিতে কিংবা ভয়ানক ধরণের উপদংশ রোগে ভুগিতে থাকলে;
vii) আঠার বত্সরর পূর্ণ হওয়ার পূর্বে তাহাকে তাহার পিতা অথবা অন্য অভিভাবক বিবাহ করাইয়া থাকিলে এবং উণিশ বত্সiর বয়স পূর্ণ হইবার পূর্বেই সে উক্ত বিবাহ অস্বীকার করিয়া থাকিলে; তবে, অবশ্য ঐ সময়ের মধ্যে যদি দাম্পত্য মিলন অনুষ্ঠিত না হইয়া থাকে;
viii) স্বামী তাহার (স্ত্রীর) সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করিলে, অর্থাত্
ক) অভ্যাসগতভাবে তাহাকে আঘাত করিলে বা নিষ্ঠুর আচরণ দ্বারা, উক্ত আচরণ দৈহিক পীড়নের পর্যায়ে না পড়িলও, তাহার জীবন শোচনীয় করিয়া তুলিয়াছে এমন হইলে;.
খ) স্বামীর দূর্নাম রহিয়াছে বা কলঙ্কিত জীবন যাপন করে এমন স্ত্রীলোকদের সহিত মেলামেশা করিলে, অথবা
গ) তাহাকে দূর্ণীত জীবন যাপনে বাধ্য করিবার চেষ্টা করিলে, অথবা
ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করিলে অথবা উহার উপর তাহার বৈধ অধিকার প্রয়োগে বাধা প্রদান করিলে, অথবা
ঙ) তাহার ধর্মীয় কর্তব্য পালনে বাধা সৃষ্টি করিলে, অথবা
চ) একাধিক স্ত্রী থাকিলে, সে কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যায়পরায়নতার সহিত তাহার সঙ্গে আচরণ না করিলে;
ix) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য বৈধ হেতু হিসাবে স্বীকৃত অন্য যে কোন কারণেঃ
তবে অবশ্য-
ক) কারাদন্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩ নং হেতু বাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না,
খ) ১ নং হেতুবাদে প্রদত্ত ডিক্রিটি উহার প্রদানের তারিখ হইতে ৬ মাস পর্যন্ত কার্যকরী হইবে না এবং স্বামী উক্ত সময়ের মধ্যে স্বয়ং অথবা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কো এজেন্টের মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া এই মর্মে যদি আদালতকে খুশী করিতে পারে যে, দাম্পত্য কর্তব্য পালনে প্রস্তুত রহিয়াছে, তাহা হইলে আদালত ডিক্রিটি রদ করিবেন; এবং
গ) ৫ নং হেতুবাদে ডিক্রি প্রদানের পূর্বে, স্বামীর আবেদনক্রমে আদালতের আদেশের এক বত্স রের মধ্যে যে পুরুষত্বহীনতা হইতে মুক্তি লাভ করিয়াছে বা তাহার পুরুষত্বহীনতার অবসান ঘটিয়াছে এই মর্মে আদালতকে সন্তুষ্ট করিবার জন্য আদালত তাহাকে আদেশ দান করিতে পারেন এবং যদি সে উক্ত সময়ের মধ্যে আদালতকে এই মর্মে সন্তুষ্ট করিতে পারে, তাহা হইলে উক্ত হেতুবাদে কোন ডিক্রি প্রদান করা যাইবে না।
৩। স্বামীর ঠিকানা জানা না থাকিলে তাহার উত্তরাধিকারীগণের উপর নোটিশ জারী করিতে হইবে
যে মামলায় ২ ধারায় (১) উপ-ধারা প্রযোজ্য, সেখানে-
ক) আর্জিতে ঐ সমস্ত লোকের নাম-ঠিকানা লিখিতে হইবে যাহারা আর্জি পেশ করিবার সময় স্বামী মারা গেলে মুসলিম আইনে স্বামীর উত্তরাধিকারী হইতেন;
খ) ঐ ধরণের ব্যক্তিগণের উপর নোটিশ জারী করিতে হইবে, এবং
গ) উক্ত মামলায় ঐ সকল ব্যক্তির বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে।
তবে অবশ্য ম্বামীর চাচা ও ভাই থাকিলে উহারা উত্তরাধিকারী না হইলেও উহাদিগকে অবশ্যই পক্ষভূক্ত করিতে হইবে।
৪। ধর্মান্তরের ফলঃ
কোন বিবাহিতা মুসলমান মহিলা ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করিলে অথবা ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মে দীক্ষা গ্রহন করিলে উহাতেই তাহা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিবে না।
তবে, অবশ্য এই জাতীয় ধর্ম ত্যাগ বা অন্য ধর্ম গ্রহণের পর মহিলাটি ২ ধারায় বর্ণিত অন্য কোন হেতুবাদে তাহার বিবাহ বিচ্ছিদের জন্য ডিক্রি গ্রহণের অধিকারিণী হইবেনঃ
আরও এই যে, অত্র ধারার ব্যবস্থাবলী ঐ মহিলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না, যে কোন ধর্ম হইতে মুসলিম ধর্মে ধর্মান্তরিত হইয়াছিল এবং বর্তমানে স্বীয় পুরাতন ধর্মে পুনরায় দীক্ষা গ্রহণ করিল।
৫। দেহমোহরের অধিকার ক্ষুন্ন হইবে নাঃ
অত্র আইনে সন্নিবেশিত কোন কিছুই কোন বিবাহিতা মহিলার বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে মুসলিম আইন অনুযায়ী তাহার প্রাপ্ত দেনমোহর অথবা উহার কোন অংশের উপর তাহার কোন অধিকারকেই ক্ষুন্ন করিবে না।
৬। ১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইনের ৫ ধারাটিকে এতদ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হইল [ ১৯৪২ সালের ২৫ নং এ্যাক্ট দ্বারা বাতিল ঘোষিত হয় ]
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৬১  [১৯৩৯ সালের ৮নং আইন]
——————————————————————

ধারা -১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রয়োগযোগ্যতার সীমা )

(১) অত্র আইন মুসলিম বিবাহবিচ্ছেদ আইন, ১৯৩৯ নামে পরিচিত হইবে ।
(২) ইহা সমস্ত বাংলাদেশে কার্যকর হইবে ।
(৩) বিবাহবিচ্ছেদ ও ডিক্রি লাভের কারণসমূহঃ মুসলিম আইন অনুসারে কোনো বিবাহিতা স্ত্রীলোক নিম্নলিখিত এক বা একাধিক কারণে তাহার বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারণী হইবে ।যথাঃ
(১) চার বছরকাল পর্যন্ত স্বামী নিখোঁজ;
(২) দুই বত্সরকাল পর্যন্ত স্বামী তাহাকে ভরণপোষণ প্রদানে অবহেলা করিয়াছে বা ব্যর্থ হইয়াছে ।

ধারা-২ (বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রির কারণসমূহ )

(১) ১৯৬১ সনের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের বিধান অমান্য করিয়া স্বামী অপর কোনো স্ত্রী গ্রহণ করিয়াছে;
(২) সাত বত্সর বা ততোধিক সময়ের জন্য স্বামী কারাদণ্ডে দণ্ডিত হইয়াছে;
(৩) যুক্তসঙ্গত কারণ ব্যতীত স্বামী তিন বত্সরকাল যাবত তাহার বৈবাহিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;
(৪) বিবাহের সময় স্বামী পুরুষত্বহীন ছিল এবং তাহার ঐরূপ অবস্থা অব্যাহত আছে;
(৫) দুই বত্সর পর্যন্ত স্বামী অপ্রকৃতিস্থ রহিয়াছে বা কুষ্ঠরোগ অথবা মারাত্মক যৌন রোগে ভুগিতে থাকে;
(৬) বয়স ১৬ বত্সর পূর্ণ হইবার আগে তাহাকে তাহার বাবা অথবা অন্য কোনো অভিভাবক বিবাহ দিয়াছে ও বয়স ১৮ বত্সর পূর্ণ হইবার আগে সে (স্ত্রীলোক) উক্ত বিবাহ নাকচ করিয়াছে । শর্ত থাকে যে, বিবাহে যৌনমিলন ঘটে নাই ।

(৭) স্বামী-স্ত্রীর সহিত নিষ্ঠুর আচরণ করে; যেমন-
(ক) তাহাকে স্বভাবতঃই আক্রমণ করে বা নিষ্ঠুর আচরণের মাধ্যমে তাহার জীবন দুর্বিসহ করিয়া তোলে যদি ঐরূপ আচরণ শারীরিক নির্যাতন নাও হয়; বা
(খ) খারাপ চরিত্রের নারীগণের সঙ্গে থাকে অথবা ঘৃণ্য জীবনযাপন করে; বা
(গ) তাহাকে নৈতিকতাহীন জীবনযাপনে বাধ্য করিতে চেষ্টার করে; বা
(ঘ) তাহার সম্পত্তি হস্তান্তর করে বা উক্ত সম্পত্তিতে তাহার আইনসঙ্গত অধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে; বা
(ঙ) তাহাকে তাহার ধর্ম বিশ্বাস অথবা ধর্ম চর্চায় বাধা প্রদান করে; বা
(চ) যদি তাহার একাধিক স্ত্রী থাকে তবে কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী সে তাহার সহিত ন্যায়সঙ্গতভাবে ব্যবহার না করে;
(৮) মুসলিম আইন অনুযায়ী বিবাহবিচ্ছেদের নিমিত্ত বৈধ বলিয়া স্বীকৃত অপর কোন কারণে শর্ত থাকে যে-
(ক) কারাদণ্ডাদেশ চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ৩নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়া হইবে না;
(খ) ১নং উপধারায় বর্ণিত কারণে উহার তারিখ হইতে ছয় মাস কাল পর্যন্ত কার্যকর হইবে না; এবং স্বামী যদি উক্ত সময় মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে বা কোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হইয়া আদালতকে সন্তোষজনক উত্তর দেয় যে সে দাম্পত্য দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছে তবে আদালত উক্ত ডিক্রি নাকচ করিবেন;
(গ) ৫নং উপধারায় বর্ণিত কারণে ডিক্রি দেওয়ার আগে আদালত স্বামীর আবেদনক্রমে তাহাকে আদেশ প্রদান করিতে পারেন যে, অত্র আদেশের তারিখ হইতে ১ বত্সরকালের মধ্যে সে আদালতের নিকট সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করিতে হইবে যে, সে পুরুষত্বহীনতা হইতে আরোগ্য লাভ করিয়াছে; এবং যদি স্বামী উক্ত সময় মধ্যে ঐরূপে আদালতকে সন্তুষ্ট করিতে পারে তবে উক্ত কারণে কোনো ডিক্রি দেওয়া হইবে না ।

ধারা-৩ (নিরুদ্দেশ স্বামীর উত্তরাধিকারদের উপর নোটিশ প্রদান )
২নং ধারার ১নং উপধারার প্রযোজ্য মামলায়-
(ক) আরজি দাখিল করিবার তারিখে স্বামীর যদি মৃত্যু ঘটিত তবে মুসলিম আইন অনুসারে যাহারা তাহার উত্তরাধিকারী হইতে তাহাদের নাম, ঠিকানা আরজিতে লিপিবদ্ধ করিতে হইবে;
(খ) ঐরূপ ব্যক্তিগণের উপর মামলার নোটিশ জারি করিতে হইবে; এবং
(গ) উক্ত মামলার শুনানিতে তাহাদের বক্তব্য পেশ করিবার অধিকার থাকিবে;
শর্ত থাকে যে, যদি স্বামীর কোনো চাচা এবং ভাই থাকে তবে সে অথবা তাহারা উত্তরাধিকারী না হইলেও মামলায় পক্ষভুক্ত হইবে ।

ধারা -৪ ( অন্য ধর্ম গ্রহণের পরিণতি )
বিবাহিতা মুসলিম মহিলা ইসলাম ধর্ম পরিত্যাগ অথবা উক্ত ধর্ম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম গ্রহণ করিলে সেইজন্য তাহার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে না ।
শর্ত থাকে যে, ঐরূপ ধর্ম ত্যাগ অথবা অন্য ধর্ম গ্রহণ করিবার পর উক্ত নারী ২ ধারায় উল্লেখিত যেকোন কারণে বিবাহবিচ্ছেদের ডিক্রি পাওয়ার অধিকারিণী হইবে ।
আরও শর্ত থাকে যে, কোনো বিধর্মী মহিলা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিবার পর পুনরায় তাহার পূর্বে ধর্মে ফিরিয়া আসিলে অত্র ধারার বিধানসমূহ তাহার প্রতি প্রযোজ্য হইবে না ।

ধারা-৫ ( দেনমোহরের অধিকার খর্ব করিবে না )
অত্র আইনে বর্ণিত কোনো কিছু মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহিতা কোনো মহিলার প্রাপ্য দেনমোহর অথবা উহার কোনো অংশের অধিকার তাহার বিবাহবিচ্ছেদ কতৃর্ক প্রভাবিত হইবে না ।

ধারা-৬ (১৯৩৭ সালের ১৬নং আইনের ৫ ধারা বাতিল )
১৯৩৭ সালের মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরীয়ত) প্রয়োগ আইনের ৫ ধারা বাতিল ।

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ আইন, লেখক- ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ।

পারিবারিক আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫
——————————————————————

১৯৮৫ সালের পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশের ২৬ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথাঃ

বিধি -১ (সংক্ষিপ্ত শিরোনাম )
এই বিধিমালা ‘পারিবারিক আদালত বিধিমালা, ১৯৮৫’ নামে অভিহিত হইবে ।

বিধি-২ ( সংজ্ঞাসমূহ )
অত্র বিধিমালা বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কিছু না থাকিলে-
(ক) ‘ফরম’ বলিতে অত্র বিধিমালার সঙ্গে সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে ।
(খ) ‘অধ্যাদেশ’ বলিতে পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৮৫ (১৯৮৫ সনের ১৮নং আইন)-কে বুঝাইবে ।

বিধি -৩ (মামলার রেজিস্ট্রি বই)
কোনো আপিল জেলা জজের আদালতে দায়ের করা হইলে উহার বিবরণ ‘খ’ ফরমে রক্ষিতব্য রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি-৪ (আপীলের রেজিস্ট্র বই )
কোনো আরজি পারিবারিক আদালতে দায়ের করা হইলে উহার বিবরণ খ ফরমে রক্ষতব্য রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি -৫ ( ডিক্রির ফরম )
অত্র অধ্যাদেশের প্রত্যেক মামলার রায় প্রদানান্ত ‘গ’ ফরমে ডিক্রি লিখিতে হইবে ও ভারপ্রাপ্ত জজ উহাতে দস্তখত দিতে হইবে ও ডিক্রি পারিবারিক আদালতের সীলমোহর যুক্ত হইবে ।

বিধি-৬ (জরিমানার রসিদের ফরম)
যেক্ষেত্রে অত্র অধ্যাদেশের ১৮ অথবা ১৯ ধারা মোতাবেক কোনো জরিমানা প্রদান করা হয় বা অত্র অধ্যাদেশের আওতায় পারিবারিক আদালত কোনো অর্থ অথবা সম্পত্তি জমা নেয় অথবা আদায় করে সেক্ষেত্রে ‘ঘ’ ফরমে রসিদ প্রদান করিতে হইবে এবং উহা ক্রমিক নম্বর যুক্ত হইতে হইবে ও উহার চেকমুড়ি পারিবারিক আদালতে রক্ষিত হইবে ।

বিধি -৭ (জরিমানা ইত্যাদির রেজিস্ট্রি বই )
পারিবারিক আদালত কতৃর্ক জমা নেওয়া অথবা আদায়কৃত এবং ব্যয়কৃত সমস্ত জরিমানা, অর্থ অথবা সম্পত্তি ‘ঙ’ ফরমে কোনো রেজিস্ট্রি হইতে অন্তর্ভুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি -৮ (পক্ষের উপর নোটিশ )
যদি পারিবারিক আদালত কোনো পক্ষের প্রাপ্য কোনো অর্থ গ্রহণ করেন তবে পারিবারিক উহা পাওয়ার পক্ষের প্রতি নোটিশ জারি করাইবেন ও উক্ত পক্ষকে উহা গ্রহণের নিমিত্ত তাহার দরখাস্তের ৭ দিনের ভিতর উহা প্রদান করিবেন ।

বিধি -৯ (পারিবারিক আদালতের রেকর্ডসমূহ এবং রেজিস্ট্রি বই )
দেওয়ানী আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সুপ্রীম কোর্টের বিধিসমূহ অনুযায়ী যথাবিধানকৃত সময়ের নিমিত্ত সংরক্ষণ করিতে হইবে ।

বিধি -১০ (রেকর্ডসমূহ ও উহা পরিদর্শন)
(১) বিরোধের কোনো পক্ষের দরখাস্তের ভিত্তিতে পারিবারিক আদালত চল্লিশ পয়সা ফী প্রদানের পর বিরোধ বিষয়ক পারিবারিক আদালতের রেকর্ডসমূহ পরিদর্শনের অনুমতি দিবেন ।
(২) মামলার কোনো পক্ষের দরখাস্তের ভিত্তিতে প্রতি একশত চল্লিশ অথবা উহার অংশবিশেষ শব্দের নিমিত্ত চল্লিশ পয়সা হারে ফী প্রদানের পর পারিবারিক আদালত উহার রায়, ডিক্রি অথবা আদেশের অথবা অপরাপর কার্যক্রমের অথবা অত্র বিধিসমূহ অনুযায়ী রক্ষিত কোনো রেজিস্ট্রি বইতে অন্তর্ভুক্তির অথবা ইহাদের কোনো অংশ বিশেষের প্রত্যায়িত প্রতিলিপি সরবরাহ করিতে হইবে ।

বিধি-১১ ( পারিবারিক আদালতের সীলমোহর )
(১) প্রতিটি পারিবারিক আদালতের অফিসে উক্ত আদালতের সীলমোহর রাখিতে হইবে এবং উহা আকারে বৃত্তাকারে হইবে ও পারিবারিক আদালত এবং স্থানের নাম থাকিবে ।
(২) অত্র অধ্যাদেশ অথবা বিধিমালার অধীনে দেওয়া সমস্ত সমন, আদেশ, ডিক্রি প্রতিলিপি এবং অপরাপর কাগজপত্রে পারিবারিক আদালতের সীলমোহর ব্যবহার করিতে হইবে ।
তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ আইন, লেখক- ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা, ১৯৬১
——————————————————————

১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১১ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার নিম্নলিখিত বিধিমালা প্রণয়ন করিলেন; যথা

বিধি -১ : অত্র বিধিমালা ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন বিধিমালা নামে অভিহিত হইবে ।

বিধি -২ : অত্র বিধিমালার বিষয়ে অথবা প্রসঙ্গে বিপরীত কোনো কিছু বর্তমানে থাকিলে-
(ক) ”চেয়ারম্যান” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে;
(খ) ”ফরম” বলিতে অত্র বিধিমালার সহিত সংযুক্ত ফরমকে বুঝাইবে;
(গ) ”স্থানীয় এলাকা” বলিতে কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতাধীন এলাকাকে বুঝাইবে;
(ঘ) ”মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;
(ঙ) ”অধ্যাদেশ” বলিতে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ (১৯৬১ সালের ৮নং আইন)-কে বুঝাইবে;
(চ) ”পৌরসভা” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে তেমন একই অর্থ বুঝাইবে;
(ছ) ”ধারা” বলিতে অধ্যাদেশে কোন ধারাকে বুঝাইবে; এবং
(জ) ”ইউনিয়ন পরিষদ” বলিতে অধ্যাদেশে যেমন সংজ্ঞা প্রদান করা হইয়াছে সেইরূপ একই অর্থ বুঝাইবে ।

বিধি-৩ : ধারার গ, ঘ অথবা চ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্যে কথিত বিষয়ে যে পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের আওতা বা এখতিয়ার থাকিবে তাহা নিম্নবর্ণিত রূপ হইবে :
(ক) ৬ ধারার ২ উপধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে বর্তমান স্ত্রী অথবা যেক্ষেত্রে একাধিক স্ত্রী বর্তমান, সেইক্ষেত্রে যে স্ত্রীর সহিত স্বামী সর্বশেষে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হইয়াছিল সেই স্ত্রী স্বামীর দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।
(খ) ৭ ধারার ১ উপধারার নোটিশের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে যেই স্ত্রী সম্বন্ধে তালাক উচ্চারণ করা হইয়াছে সেই স্ত্রী তালাক উচ্চারণ করার সময় বসবাস করিতেছিল এবং
(গ) ৯ ধারার দরখাস্তের বেলায় ইহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ও যদি একাধিক স্ত্রী উক্ত ধারায় দরখাস্ত দেয় তবে উহা সেই পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ হইবে যেখানে সর্বপ্রথম দরখাস্তকারিণী স্ত্রী তাহার দরখাস্ত দাখিলের সময় বসবাস করিতেছে ।

বিধি-৪ : (১) যদি কোনো পৌর কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরূপে কোনো অমুসলিম, নির্বাচিত হয় তবে সেইক্ষেত্রে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদ যত শীঘ্র সম্ভব হইতে পারে তত শীঘ্র অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে ইহার কোনো মুসলিম সদস্যকে চেয়ারম্যানরূপে নির্বাচিত করিবেন ।
(২) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমে কোনো পক্ষ চেয়ারম্যানকে অপর পক্ষের অনুকূলে স্বার্থান্বিত বলিয়া মনে করিলে অন্য কাহাকেও চেয়ারম্যান নিযুক্তির নিমিত্ত লিখিতভাবে রেকর্ডতব্য হেতুসমূহসহ যেমন নির্ধারিত হইতে পারে তেমন ব্যক্তির নিকট দরখাস্ত করিতে পারেন যিনি যথাযথ মনে করিলে উক্ত কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের অপর কোনো সদস্যকে অধ্যাদেশের কার্যকারিতার্থে হিসাবে নিযুক্ত করিতে পারে এবং এইরূপ নির্ধারিত ব্যক্তি উক্ত দরখাস্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সালিশী পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখিবেন ।

বিধি-৫ : (১) সালিশী পরিষদে আনীত কার্যব্যবস্থা চেয়ারম্যান যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিচালনা করিবেন ।
(২) কোনো ব্যক্তির প্রতিনিধি মনোনয়নে ব্যর্থতার দরুন অথবা অন্য কোনোভাবে সালিশী পরিষদে কোনো পদ খালি হওয়ার কারণে এইরূপ কার্যক্রম ত্রুটিযুক্ত হইবে না ।
(৩) যদি মনোনয়ন প্রদানে ব্যর্থতার কারণ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে পদশূন্য হয় তবে সেক্ষেত্রে চেয়ারম্যান নুতন মনোনয়ন দাবি করিবেন ।
(৪) সালিশী পরিষদের কার্যক্রমের কোনো পক্ষই উক্ত পরিষদের সদস্য হইতে পারিবে না ।
(৫) সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সালিশী পরিষদের সকল সিদ্ধান্ত গৃহীত হইবে এবং যদি কোনো সিদ্ধান্তই সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত হিসাবে গণ্য হইবে ।

বিধি-৬ : (১) ৬ ধারার ২ উপধারায় অথবা ৯ ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত বা ৭ ধারার ১ উপধারায় কোনো নোটিশ প্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর চেয়ারম্যান লিখিত আদেশ মাধ্যমে পক্ষগণের প্রত্যেককে তাহার প্রতিনিধি মনোনয়ন করিতে নির্দেশ দিবেন ও এইরূপ প্রত্যেক পক্ষ উক্ত আদেশ প্রাপ্তির সাত দিনের ভিতর লিখিতভাবে তাহার একজন প্রতিনিধি মনোনয়ন করিবে ও চেয়ারম্যানের নিকট মনোনয়ন দাখিল করিবে বা রেজিস্ট্রি ডাকযোগে চেয়ারম্যানকে ইহা পাঠাইবে ।
(২) যদি কোনো পক্ষের মনোনীত প্রতিনিধি মৃত্যুমুখে পতিত হয় বা অসুস্থতা বা অন্যবিধ কারণে সালিশী পরিষদের মিটিং-এ অনুপস্থিত থাকেন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনাস্থাভাজন হন তবে এইরূপক্ষেত্রে পক্ষটি চেয়ারম্যানের লিখিত পূর্বানুমতিক্রমে মনোনয়নটি প্রত্যাহার করিতে পারেও চেয়ারম্যান যে সময় মঞ্জুর করিতে পারেন সেই সময়ের ভিতর নূতন মনোনয়ন প্রদান করিতে হইবে ।
(৩) যদি ২ উপধারা অনুযায়ী নূতন মনোনয়ন প্রদান করা হয় তবে চেয়ারম্যান লিখিতভাবে রেকর্ডকৃতব্য কারণে ভিন্নরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদ উহার কার্যক্রম নূতনভাবে শুরু করার প্রয়োজন পড়িবে না ।

বিধি ৭-১৩ ( বাতিল ।)

বিধি -১৪ : বহুবিবাহঃ একটি বর্তমান বিবাহ বলবত থাকাকালীন অন্য একটি প্রস্তাবিত বিবাহ ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় কিনা তাহা বিবেচনার সময় সালিশী পরিষদ ইহার সাধারণ ক্ষমতার ক্ষতি না করিয়া অন্যান্যের সহিত নিম্নলিখিত পরিস্থিতিগুলির দিকে নজর রাখিবেন-
কোনো বর্তমান স্ত্রীর বেলায় বন্ধাত্ব দৈহিক দৌর্বল্য, দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৈহিক অনুপযুক্ততা, দাম্পত্য জীবন পুনরুদ্ধারের নিমিত্ত একটি ডিক্রি ইচ্ছাকৃতভাবে এড়াইয়া চলা অথবা বর্তমান স্ত্রীর অপ্রকৃতিস্থতা ।

বিধি -১৫ : একটি বর্তমান বিবাহ বলবত্‍ থাকাকালীন অন্য একটি বিবাহ চুক্তি করার অনুমতি প্রদানের নিমিত্ত ৬ ধারার ১ উপধারায় কোনো দরখাস্ত লিখিতভাবে করিতে হইবে, ইহাতে বর্তমান স্ত্রী অথবা স্ত্রীগণের সম্মতি নেওয়া হইয়াছে কিনা উহা বর্ণনা করিতে হইবে, যে কারণসমূহের ভিত্তিতে নূতন বিবাহটি ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয় বলা হইয়াছে সেইগুলি সংক্ষিপ্তভাবে দরখাস্তে বর্ণনা করিতে হইবে । দরখাস্তকারীর দস্তখত উহাতে থাকিতে হইবে এবং পঁচিশ টাকার ফী তত্সঙ্গে যুক্ত করিতে হইবে ।

বিধি -১৬ :রিভিশনঃ (১) ৬ ধারার ৪ উপধারায় প্রদত্ত সালিশী পরিষদের সিদ্ধান্ত বা ৯ ধারার ২ উপধারায় প্রদত্ত কোনো সার্টিফিকেট রিভিশনের নিমিত্ত কোনো দরখাস্ত সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেট, সে যাহাই হউক প্রদানের ত্রিশ দিনের ভিতর দাখিল করিতে হইবে ও তত্সহ দুই টাকার ফী সংযুক্ত করিতে হইবে ।
(২) দরখাস্তখানা লিখিত হইতে হইবে এবং যে সকল কারণসমূহের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি অথবা সার্টিফিকেটটির রিভিশন চাওয়া হয় উহা বর্ণনা করিতে হইবে ও ইহাতে দরখাস্তকারীর দস্তখত থাকিতে হইবে ।

বিধি -১৭ : গোপন কার্যক্রমঃ চেয়ারম্যান অন্যরূপ নির্দেশ প্রদান না করিলে সালিশী পরিষদের সকল কার্যক্রম গোপনে অনুষ্ঠিত হইবে ।

বিধি -(১৮ – ২০ ) বাতিল ।

তথ্য সূত্র : জনগূরুত্বপূর্ণ আইন, লেখক- ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১
(১৯৬১ সনের ৮নং অধ্যাদেশ)

বিবাহ এবং পারিবারিক আইন কমিশনের কতিপয় সুপারিশ কার্যকর করার জন্য প্রণীত অধ্যাদেশ৷
যেহেতু, বিবাহ এবং পারিবারিক আইন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা দরকার ও সমীচীন৷ সেহেতু, ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবরের ঘোষণা দ্বারা রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত ক্ষমতা বলে, নিম্নলিখিত অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারী করলেন:
১৷ সংক্ষিপ্ত শিরোনাম, সীমা, প্রয়োগ ও বলবতের সময় (Short title, extent, application and commencement):
এই অধ্যাদেশকে ১৯৬১ সনের ‘মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ’ নামে অভিহিত করা হবে।
ইহা সমগ্র বাংলাদেশে এবং যে যেখানেই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের সকল মুসলিম নাগরিকের উপর প্রযোজ্য হবে।
সরকার, সরকারী গেজেটে বিজ্ঞপ্তি মারফত যে তারিখ নির্ধারণ করবেন, সেই তারিখ হতে উহা কার্যকর হবে।
(উল্লেখ্য যে, ১৯৬১ সনের ১৫ই জুলাই তারিখ হতে এই অধ্যাদেশটি বলবত হয়েছে)
২৷ সংজ্ঞাসমূহ (Definitions): এই অধ্যাদেশে, বিষয়বস্তু বা প্রসঙ্গ হতে বিপরীত কিছু প্রতীয়মান না হলে-
(ক) ‘সালিসী পরিষদ’ (Arbitration Council) বলতে চেয়ারম্যান এবং এই অধ্যাদেশে উল্লিখিত কোন বিষয়ের সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের প্রত্যেকের একজন প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত পরিষদকে বুঝাবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোন পক্ষ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে ব্যর্থ হলে অনুরূপ প্রতিনিধি ছাড়া গঠিত পরিষদই সালিসী পরিষদ হবে।
(খ) চেয়ারম্যান (Chairman) বলতে বুঝাবে-
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান;
পৌরসভার চেয়ারম্যান;
মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক;
সেনানিবাস এলাকায় অত্র অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার কর্তৃক মনোনীত ব্যক্তি;
কোন ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন বাতিল করা হলে সেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক অত্র অধ্যাদেশের অধীনে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালনের জন্য মনোনীত ব্যক্তি।
তবে শর্ত থাকে যে,যেখানে ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভার চেয়ারম্যান একজন অমুসলমান অথবা তিনি নিজেই সালিসী পরিষদের নিকট কোন দরখাস্ত করতে চাহেন এমন হলে,অথবা অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, উক্ত ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা উহার একজন মুসলমান সদস্যকে এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্যাবলী পূরণকল্পে একজনকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবেন।
(গ) ‘মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন’ (Municipl Corporation) বলতে ১৯৮২ সালের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮২ সনের ৩৫ নং অধ্যাদেশ) অথবা ১৯৮৩ সালের ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সনের ৪০নং অধ্যাদেশ), অথবা ১৯৮৪ সালের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৪ সনের ৭২ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী গঠিত মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন বুঝাবে এবং নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্ন হবে।
(ঘ) ‘পৌরসভা’ (Paurashava) বলতে ১৯৭৭ সালের পৌরসভা অধ্যাদেশ (১৯৭৭ সনের ২৬ নং অধ্যাদেশ) অনুযায়ী গঠিত পৌরসভা বুঝাইবে এবং নির্ধারিত এখতিয়ার বুঝায়।
(ঙ) ‘নির্ধারিত’ (Prescribed) বলতে ১১ ধারার অধীনে প্রণীত বিধিমালা দ্বারা নির্ধারিত বুঝায়।
(চ) ‘ইউনিয়ন পরিষদ’ (Union Parishad) বলতে ১৯৮৩ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশের (১৯৮৩ সনের ৫১ নং অধ্যাদেশ) এর অধীনে গঠিত এবং উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত এখতিয়ার সম্পন্ন ইউনিয়ন পরিষদকে বুঝায়।
৩৷ অত্র অধ্যাদেশ অন্যান্য আইনের উপর প্রাধান্য লাভ করবে (Ordinance to override other laws):
অপর কোন আইন, বিধি অথবা প্রচলিত রীতিতে যাই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের বিধানাবলী কার্যকর হবে।
সন্দেহ দূরীকরণের উদ্দেশ্যে, এতদ্বারা ইহা ঘোষণা করা যাচ্ছে যে, ১৯৪০ সালের সালিসী আইন, ১৯০৮ সালের দেওয়ানী কার্যবিধি এবং আদালতের কার্যধারা নিয়ন্ত্রণকারী অপর কোন আইনের কোন ব্যবস্থা সালিশী পরিষদে প্রযোজ্য হবে না।

৪৷ উত্তরাধিকার (Succession): যাহার সম্পত্তি উত্তরাধিকার সূত্রে বন্টিত হবে, তার পূর্বে তার কোন পুত্র বা কন্যা মারা গেলে এবং উক্ত ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি বন্টনের সময় উক্ত পুত্র বা কন্যার কোন সন্তানাদি থাকলে, তারা প্রতিনিধিত্বের হারে সম্পত্তির ঐ অংশ পাবে, যা তাদের পিতা অথবা মাতা জীবিত থাকলে পেতো।

৫৷ [বাতিল এই ধারাটি ১৯৭৪ সালের মুসলিম বিবাহ ও তালাক রেজিষ্ট্রেশন আইন দ্বারা বাদ দেওয়া হয়েছে]

৬৷ বহু বিবাহ (Polygamy):
(১) সালিশী পরিষদের লিখিত পূর্বানুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি একটি বিবাহ বলবত থাকলে আরেকটি বিবাহ করতে পারবে না এবং পূর্ব অনুমতি গ্রহণ না করে এই জাতীয় কোন বিবাহ হলে তা মুসলিম বিবাহ ও তালাক (রেজিষ্ট্রেশন) আইন, ১৯৭৪ (১৯৭৪ সনের ৫২নং আইন) অনুসারে রেজিষ্ট্রি হবে না।
(২) (১) উপ-ধারায় বর্ণিত অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ফিসসহ নির্ধারিত পদ্ধতিতে চেয়ারম্যানের নিকট আবেদন করতে হবে এবং আবেদনপত্রে প্রস্তাবিত বিবাহের কারণ এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের সম্মতি নেওয়া হয়েছে কিনা, তা উল্লেখ করতে হবে।
(৩) উপরোক্ত (২) উপ-ধারা মোতাবেক আবেদনপত্র পাওয়ার পর চেয়ারম্যান আবেদনকারী এবং বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের প্রত্যেককে একজন করে প্রতিনিধি মনোনয়ন করতে বলবেন এবং এইরূপে গঠিত সালিশী পরিষদ যদি মনে করেন যে, প্রস্তাবিত প্রয়োজন এবং ন্যায়সঙ্গত, তা হলে কোন শর্ত থাকলে উহা সাপেক্ষে, প্রার্থিত বিবাহের অনুমতি মঞ্জুর করতে পারেন।
(৪) আবেদনটি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় সালিশী পরিষদ সিদ্ধান্তের কারণসমূহ লিপিবদ্ধ করবেন এবং যে কোন পক্ষ, নির্দিষ্ট ফিস জমা দিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংশ্লিষ্ট মুন্সেফের নিকট রিভিশনের (Revision) জন্য আবেদন দাখিল করতে পারবেন এবং সালিসী পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন আদালতে উহার বৈধতা সম্পর্কে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
(৫) সালিশী পরিষদের অনুমতি ছাড়া কোন ব্যক্তি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলে তাকে-
(ক) অবিলম্বে তার বর্তমান স্ত্রী বা স্ত্রীদের “তাত্ক্ষণিক” অথবা “বিলম্বিত” দেনমোহরের (Prompt or deferred dower) যাবতীয় টাকা পরিশোধ করতে হবে এবং উক্ত টাকা পরিশোধ করা না হলে উহা বকেয়া ভূমি রাজস্বের ন্যায় আদায়যোগ্য হবে।
(খ) অভিযোগক্রমে দোষী সাব্যস্ত হলে সে এক বত্সর পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডনীয় হবে।

৭৷ তালাক (Talaq):
(১) কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইলে, তিনি যে কোন পদ্ধতির তালাক ঘোষণার পর যথাশীঘ্র সম্ভব চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে নোটিশ দিবেন এবং স্ত্রীকে উক্ত নোটিশের একটি অনুলিপি (নকল) প্রদান করবেন।
(২) কোন ব্যক্তি (১) উপ-ধারার বিধান লংঘন করলে তিনি এক বত্সর বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় প্রকার দণ্ডনীয় হবেন।
(৩) নিম্নের (৫) উপধারার বিধান অনুসারে প্রকাশ্যে বা অন্য কোনভাবে তালাক, আগে প্রত্যাহার করা না হয়ে থাকলে, (১) উপধারা মোতাবেক চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদানের তারিখ হতে নব্বই দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কার্যকরী হবে না।
(৪) উপরোক্ত (১) উপধারা অনুযায়ী নোটিশ প্রাপ্তির ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পুনর্মিলন ঘটানোর উদ্দেশ্যে একটি সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং উক্ত সালিসী পরিষদ এই জাতীয় পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
(৫) তালাক ঘোষণার সময় স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে, (৩) উপধারায় বর্নিত সময়কালে অথবা গর্ভাবস্থা, যেটি পরে শেষ হয়, অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক বলবত হবে না।
(৬) অত্র ধারা অনুযায়ী তালাক দ্বারা যে স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে সেই স্ত্রী, এই জাতীয় তালাক তিনবার এইভাবে কার্যকরী না হলে, কোন তৃতীয় ব্যক্তিকে বিবাহ না করে পুনরায় একই স্বামীকে বিবাহ করতে পারবে।

৮৷ তালাক ছাড়া অন্যভাবে বিবাহ-বিচ্ছেদ (Dissolution of marriage otherwise than by talaq):
যেক্ষেত্রে তালাক দেয়ার অধিকার যথাযথভাবে স্ত্রীকে অর্পণ করা হয়েছে এবং স্ত্রী সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে ইচ্ছুক বা স্ত্রী তালাক ব্যতীত অন্য কোন উপায়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটাতে চাহে, সেক্ষেত্রে ৭ ধারার বিধানাবলী প্রয়োজনীয় পরিবর্তনসহ যথাসম্ভব প্রযোজ্য হবে।

৯৷ ভরণ-পোষণ (Maintenance):
(১) কোন স্বামী তার স্ত্রীকে পর্যাপ্ত ভরণ-পোষণ বা খোরপোষ দানে ব্যর্থ হলে বা একাধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাহাদিগকে সমভাবে খোরপোষ না দিলে, স্ত্রী বা স্ত্রীগণ কেহ, অন্য কোন আইনানুগ প্রতিকার প্রার্থনা ছাড়াও চেয়ারম্যানের নিকট দরখাস্ত করতে পারেন। এইক্ষেত্রে চেয়ারম্যান বিষয়টির নিষ্পত্তির জন্য সালিশী পরিষদ গঠন করবেন এবং ঐ পরিষদ স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে ভরণ-পোষণ বাবদ প্রদানের জন্য টাকার পরিমাণ নির্দিষ্ট করে সার্টিফিকেট জারী (ইস্যু) করতে পারবেন।
(২) কোন স্বামী বা স্ত্রী নির্ধারিত পদ্ধতিতে নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট ফি প্রদান পূর্বক ঐ ইস্যুকৃত সার্টিফিকেট খানা পুর্নবিবেচনা জন্য সংশ্লিষ্ট মুন্সেফের নিকট আবেদন করতে পারবেন এবং তার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন আদালতে এই সম্বন্ধে কোন প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না।
(৩) উপরের (১) অথবা (২) উপ-ধারা মোতাবেক দেয় কোন টাকা যথাসময়ে বা সময়মত পরিশোধ করা না হলে বকেয়া ভূমি রাজস্ব হিসাবে আদায় করা চলবে।

১০৷ দেনমোহর (Dower):
নিকাহনামা বা বিবাহের চুক্তিতে দেনমোহর পরিশোধের পদ্ধতি নির্দিষ্টভাবে উল্লিখিত না থাকলে, দেনমোহরের সমগ্র অর্থ চাহিবামাত্র পরিশোধযোগ্য (দেয়) বলে ধরে নিতে হবে।

১১৷ বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা (Power to make rules):
(১) এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য কার্যে পরিণত করার জন্য সরকার বিধিমালা (নিয়মকানুন) প্রণয়ন করতে পারবেন।
(২) এই ধারায় বিধিমালা প্রণয়নের সময় সরকার এইরূপ বিধান রাখতে পারেন যে, বিধিমালার কোনটি ভঙ্গের জন্য এক মাস পর্যন্ত বিনাশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাচশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় প্রকার দণ্ড হতে পারে।
(৩) অত্র ধারা অনুসারে প্রণীত বিধিমালা সরকারী গেজেটে প্রকাশিত হবে এবং অতঃপর তা এই অধ্যাদেশে বিধিবদ্ধ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

১১ ক৷ বিচারের স্থান (Place of trial):
বর্তমানে প্রচলিত অন্য যে কোন আইনে যাই থাকুক না কেন, এই অধ্যাদেশের অধীনে কোন অপরাধের বিচার হবে সেই আদালতে যে আদালতের স্থানীয় সীমারেখার মধ্যে-
(ক) অপরাধটি সংঘটিত হয়েছে; অথবা
(খ) অভিযোগকারী (বাদী) অথবা আসামী (বিবাদী) বসবাস করেন অথবা সর্বশেষ বসবাস করছিল।

১২৷ ১৯২৯ সনের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের সংশোধন (Amendmeent of the Dissolution of Muslim Marriage Act, ১৯২৯):
১ঌ২ঌ সনের বাল্য বিবাহ নিরোধ আইনের –
(১) ২ ধারায় –
(ক) দফা (ক) তে ‘চৌদ্দ’ শব্দটির স্থলে ‘ষোল’ শব্দটি বসবে;
(খ) (গ) দফায় ‘এবং’ শব্দটি বাদ যাবে; এবং
(গ) (ঘ) দফার শেষের দিকে দাড়ির পরিবর্তে কমা বসবে এবং এরপর নিম্নলিখিত নুতন দফা (ঙ), (চ) এবং (ছ) যোগ হবে৷ যথা-
(ঙ) ‘মিউনিসিপ্যাল করর্পোরেশন’ বলতে ১৯৮২ সালের চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮২ সনের ৩৫নং অধ্যাদেশ) অথবা ১৯৮৩ সনের ঢাকা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ). (১৯৮৩ সনের ৪০ নং অধ্যাদেশ) বা ১৯৬৮৪ সালের খুলনা মিউনিসিপ্যাল করপোরেশন অধ্যাদেশ (১৯৮৪ সনের ৭২ নং অধ্যাদেশ)-এর অধীনে গঠিত মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনকে বুঝাবে যার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্য-বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে;
(চ) ‘পৌরসভা’ বলতে ১৯৭৭ সনের পৌরসভা অধ্যাদেশের (১৯৭৭ সনের ২৬নং অধ্যাদেশ) অধীনে গঠিত পৌরসভাবে বুঝাবে, যাহার এখতিয়ারের মধ্যে কোন বাল্যবিবাহ হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
(ছ) ‘ইউনিয়ন পরিষদ’ বলতে ১৯৮৩ সনের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) অধ্যাদেশ (১৯৮৩ সনের ৫১ নং অধ্যাদেশ) অনুসারে ইউনিয়ন পরিষদ, যা এখতিয়ারে মধ্যে কোন বাল্য বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়েছে বা হওয়ার উপক্রম হয়েছ।
(২) ৩ ধারাটি বাদ যাবে।
(৩) ৪ ধারায় ‘একুশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘আঠার’ শব্দটি বসবে।
(৪) ৯ ধারায় …’অত্র আইনানুসারে’ শব্দগুলির পর ‘ইউনিয়ন পরিষদ’ অথবা সংশ্লিষ্ট এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা না থাকলে সরকার কর্তৃক উক্ত বিষয়ে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অভিযোগ ব্যতীত কোন অবস্থায় এইরূপ মামলা বিচারার্থ গ্রহণ করা যাবে না৷ শব্দগুলি যুক্ত হবে; এবং
(৫) ১১ ধারাটি বাদ যাবে ।

১৩ ৷ ১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের ( ১৯৩৯ সালের ৮ নং আইনের) সংশোধন:
১৯৩৯ সনের মুসলিম বিবাহ-বিচ্ছেদ আইনের (১৯৩৯ সালের ৮ নং আইন) এর ২ ধারায়-
(ক) দফা (ii)-এর পর নিম্নলিখিত নুতন উপ-দফা ( ii-ক) যুক্ত হবে, যথা:
(ii-ক) যেহেতু স্বামী ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ব্যবস্থাবলী লংঘন করা একজন অতিরিক্ত স্ত্রী গ্রহণ করেছে; এবং
(খ) (vii) দফায় ‘পনের’ শব্দটির পরিবর্তে ‘ষোল’ শব্দটি বসবে।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮ঌ০
The Guardians and Wards Act, 1890
(১৮ঌ০ সনের ৮নং আইন)

অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করার আইন। যেহেতু অভিভাবক এবং প্রতিপাল্য সম্পর্কিত আইন একীকরণ ও সংশোধন করা সমীচীন; সেহেতু উহা এতদ্বারা নিম্নরূপ বিধিবদ্ধ করা হল।

১ম অধ্যায়
প্রারম্ভিক

ধারা-১। শিরোনাম, আওতা ও প্রারম্ভ :
(১) এই আইনকে অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ নামে অভিহিত করা যেতে পারে,
(২) ইহা সমগ্র বাংলাদেশে প্রযোজ্য, এবং
(৩) ১৮৯০ সনের ১ জুলাই হতে ইহা কার্যকর হবে।
ধারা-২। ১৯৩৮ সনের ১নং আইন দ্বারা বাতিল করা হয়েছে।
ধারা-৩। ১৯৭৩ সনের ৮নং আইনের ২ ধারা দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।
ধারা-৪। সংজ্ঞা :
এই আইনের বিষয়ে বা প্রসঙ্গে পরিপন্থী কিছু না থাকলে-
(১) “নাবালক” বলতে ১৮৭৫ সালের (১৮৭৫ সনের ৯নং আইন) সাবালকত্ব মর্ম মতে যে এখনো সাবালকত্ব লাভ করে নাই তাকে বুঝায়।
(২) “অভিভাবক” বলতে যে ব্যক্তি কোন নাবালকের শরীর অথবা সম্পত্তি অথবা সম্পত্তি ও শরীর উভয়ের তত্ত্বাবধানে নিযুক্ত তাকে বুঝায়।
(৩) “প্রতিপাল্য” বা “ওয়ার্ড” বলতে একজন নাবালক যার শরীর বা সম্পত্তি অথবা শরীর এবং সম্পত্তির জন্য একজন অভিভাবক আছে তাকে বুঝায়।
(৪) জেলা আদালত বলতে দেওয়ানী কার্যবিধিতে (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) যে অর্থ বুঝান হয়েছে তা বুঝায় এবং হাইকোর্ট ডিভিশনের সাধারণ মূল দেওয়ানী অধিক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত করে;
(৫) “আদালত” বলতে-
(ক) এই আইনে কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক নিযুক্ত অথবা ঘোষণা করার জন্য দরখাস্ত গ্রহণ করার বৈধ কর্তৃত্বসম্পন্ন জেলা আদালতকে বুঝায়, অথবা
(খ) যেখানে এরূপ কোন দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করা হয়েছে-
(i) আদালত অথবা ঐ কর্মকর্তার আদালত যিনি অভিভাবক নিয়োগ অথবা ঘোষণা করেছেন অথবা এই আইনে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করেছেন বলে মনে করা হয়, অথবা
(ii) নাবালকের শরীর সম্বন্ধে যেকোন ব্যাপারে নাবালক কিছু সময়ের জন্য সাধারণত যেখানে বসবাস করে সে এলাকার জেলা আদালত, অথবা
(গ) ৪ক ধারায় বদলিকৃত কোন মামলা ঐ কর্মকর্তার আদালতে যার নিকট উক্ত মামলা বদলি উক্ত মামলা বদলি করা হয়েছে।
(৬) “কালেক্টর” বলতে কোন জেলার রাজস্ব প্রশাসনের প্রধান কর্মকর্তাকে বুঝায় এবং সরকার গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নামে বা পদ মর্যাদার বলে কাকে কোন স্থানীয় এলাকার জন্য বা এই আইনের সকল বা কোন উদ্দেশ্যে কোন শ্রেণীর লোকের জন্য কালেক্টর নিযুক্ত করলে তাও অন্তর্ভুক্ত করবে;
(৭) ১৯৭৩ সনের ৮নং আইনের ৩ ধারা, ২য় তফশিল দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে
(৮) “নির্ধারিত” বলতে মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট কর্তৃক নির্ধারিত কোন বিধিকে বুঝায়।

ধারা-৪ক। অধ:স্তন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার উপর কর্তৃত্ব আরোপ করার এবং মামলা বদলি করার ক্ষমতা :
(১) হাইকোর্ট ডিভিশন সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দ্বারা মূল দেওয়ানী কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে জেলা আদালতের অধ:স্তন এমন কোন কর্মকর্তাকে বা কোন জেলা আদালতের জজকে তার অধ:স্তন কোন কর্মকর্তাকে তার নিকট বদলিকৃত যেকোন মামলা এই ধারা অনুসারে নিষ্পত্তি করবার জন্য ক্ষমতা অর্পণ করতে পারেন।
(২) কোন জেলা আদালতের জজ লিখিত আদেশ দ্বারা নিষ্পত্তির জন্য তাঁর আদালতে অপেক্ষমান এই আইনের যেকোন মামলা (১) উপ-ধারার ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার অধ:স্তন যেকোন আদালতে বদলি করতে পারেন।
(৩) কোন জেলা আদালতের জজ (১) উপ-ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত তার অধ:স্তন যে কোন আদালতে বা এমন ধরনের অন্য কোন অধ:স্তন কর্মকর্তার আদালতে অপেক্ষমান এই আইনের কোন মামলা তার নিজ আদালতে বা এমন ধরনের অন্য কোন অধ:স্তন কর্মকর্তার আদালতে বদলি করতে পারেন।
(৪) অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে এমন ধরনের এই আইনের কোন মামলা বদলি করা হলে জেলা আদালতের জজ লিখিত আদেশ দ্বারা ঘোষণা করতে পারেন যে, সেখানে এমন ধরনের মামলা বদলি হয়েছে তেমন জজের আদালত বা অফিসকে এই আইনের কোন বা সব উদ্দেশ্য অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষিত হওয়ার আদালত মনে করা হবে।

২য় অধ্যায়
অভিভাবক নিয়োগ ও ঘোষণা

ধারা-৫। ১৯৭৩ সনের ৮নং আইন, ৩ ধারা ও ২য় তফশিল দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।

ধারা-৬। অন্যক্ষেত্রে নিয়োগ ক্ষমতার ব্যতিক্রম:

এই ধারার কোন কিছু দ্বারাই কোন নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগের ক্ষমতা যা আইনে বৈধ তা নিয়ে যাওয়া বা কমিয়ে দেয়া ব্যাখ্যা করা যাবে না।

ধারা-৭। অভিভাবকত্বের ব্যাপারে আদেশ প্রদানে আদালতের ক্ষমতা:
(১) যেখানে আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে নাবালকের মঙ্গলের জন্য আদেশ প্রদান করা প্রয়োজন-

(ক) তার শরীর অথবা সম্পত্তি অথবা উভয়ের ব্যাপারে একজন অভিভাবক নিযুক্ত করে, অথবা
(খ) কোন ব্যক্তিকে তেমন অভিভাবক ঘোষণা করে আদালত তদানুসারে আদেশ প্রদান করতে পারেন;
তবে শর্ত এই যে নাবালক বাংলাদেশের নাগরিক হলে বাংলাদেশী নাগরিক ছাড়া অন্য কাকেও তার অভিভাবক নিযুক্ত করা যাবে না।
(২) উইল বা অন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্ত না হলে অথবা কর্তৃক ঘোষিত না হলে এই ধারাবলে কোন আদেশ কোন অভিভাবকের অপসারণ বুঝাবে।
(৩) যেক্ষেত্রে কোন অভিভাবক উইল বা অন্য দলিল দ্বারা অথবা আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত হয়েছে সেক্ষেত্রে এ ধারায় অন্য কোন ব্যক্তিকে তার পরিবর্তে অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করা যাবে না যে পর্যন্ত না উক্তভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিথ অভিভাবক এই আইন অনুসারে দায়িত্ব পালন বন্ধ করেছে।

ধারা-৮। আদেশ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে যারা স্বত্ববান:
শেষোক্ত ধারাগুলির অধীনে নিম্নোক্ত ব্যক্তিবর্গের দরখাস্ত ছাড়া কোন আদেশ দেয়া হবে না-

(ক) যে ব্যক্তি অভিভাবক হতে ইচ্ছুক বা অভিভাবক হবার দায়ী করে, অথবা
(খ) নাবালকের কোন আত্নীয় বা বন্ধু, অথবা
(গ) জেলা কালেক্টর বা অন্য স্থানীয় এলাকার যেখানে নাবালক সাধারণত বসবাস করে অথবা যেখানে তার সম্পত্তি আছে, অথবা
(ঘ) নাবালক যেই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত সেই শ্রেণীর উপর কর্তৃত্ব আছে এমন কালেক্টর।

ধারা-৯। দরখাস্ত গ্রহণ করায় আদালতের এখতিয়ার :
(১) যদি দরখাস্ত নাবালকের বা প্রতিপাল্যের শরীরের অভিভাবকত্বের ব্যাপারে হয় তা হলে নাবালক সাধারণত যেখানে বসবাস করে সে এলাকার জেলা আদালতে তা দাখিল করতে হবে।
(২) যদি দরখাস্ত নাবালকের বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তির অভিভাবকত্বের ব্যাপারে হয় সে ক্ষেত্রে উহা এক হয় নাবালক যেখানে সাধারণত বসবাস করে বা যেখানে তার সম্পত্তি আছে সেই এলাকার জেলা আদালতে দাখিল করতে হবে।
(৩) নাবালকের বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তির অভিভাবকত্বের ব্যাপারে নাবালক যেখানে সাধারণত বাস করে সে এলাকার জেলা আদালত ছাড়া অন্য আদালতে দরখাস্ত করলে, উক্ত আদালত এখতিয়ার সম্বলিত অন্য জেলা আদালত কর্তৃক উক্ত দরখাস্ত আরো ন্যায়ত ও সুবিধাজনকভাবে নিষ্পত্তি হবে বিবেচনা করলে উক্ত দরখাস্ত ফেরত দিতে পারবেন।

ধারা-১০। দরখাস্তের ধরন:
(১) যদি কালেক্টর দরখাস্ত না দেন তা হলে দেওয়ানী কার্যবিধিতে (১৯৮০ সনের ৫নং আইন) আরজি দরখাস্ত ও প্রতিপাদনের জন্য নির্ধারিত নিয়মে ঐ দরখাস্তেও স্বাক্ষর ও প্রতিপাদন হতে এবং যতদূর পর্যন্ত নির্ণয় করা যায়-

(ক) নাবালকের নাম, লিঙ্গ, জণ্ম তারিখ এবং তাহার সাধারণ বাসস্থান;
(খ) নাবালক স্ত্রীলোক হলে সে বিবাহিতা কিনা এবং সেক্ষেত্রে তার স্বামীর নাম এবং বয়স;
(গ) নাবালকের সম্পত্তির রকম, অবস্থান এবং আনুমানিক মূল্য, যদি থাকে;
(ঘ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির জিম্মাদার বা দখলকারের নাম এবং বাসস্থান;
(ঙ) নাবালকের নিকট আত্নীয় কারা এবং তাদের বাসস্থান;
(চ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের অভিভাবক নিয়োগ দানে স্বত্বাধিকারী বা আইনগত নিযুক্তি দিতে অধিকারী বলে দাবীকারী কর্তৃক নিযুক্ত হয়েছে কি না;
(ছ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের অভিভাবকত্বের জন্য কোন সময়ে কোন আদালতে দরখাস্ত করা হয়েছিল কিনা এবং সেক্ষেত্রে কোন আদালতে এবং কি ফলাফল;
(জ) দরখাস্ত নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক নিয়েগ বা ঘোষণার জন্য কি না;
(ঝ) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির বা উভয়ের জন্য অভিভাবক নিযুক্তি বা ঘোষণার জন্য আবেদন কি না;
(ঞ) অভিভাবকের নিযুক্তির আবেদন হলে প্রস্তাবিত অভিভাবকের যোগ্যতাসমূহ;
(ট) কোন ব্যক্তিকে অভিভাবক ঘোষণার দরখাস্ত হলে উক্ত ব্যক্তির দাবীর ভিত্তিসমূহ;
(ঠ) দরখাস্ত করার কারণসমূহ; এবং
(ড) অন্যান্য বিবরণ যদি নির্ধারিত থেকে থাকে অথবা দরখাস্তের প্রকৃতির জন্য প্রয়োজন হয়, তা বর্ণনা করবেন।
(২) কালেক্টর কর্তৃক উক্ত দরখাস্ত করা হলে চিঠির আকারে আদালতে প্রেরণ করতে হবে এবং ডাক বা সুবিধাজনক মনে করা তেমন কোন উপায়ে পাঠাতে হবে এবং দরখাস্তে (১) উপধারায় বর্ণিত বিবরণগুলি যতদূর সম্ভব দিতে হবে।
(৩) দরখাস্তে প্রস্তাবিত অভিভাবকের কাজ করার ইচ্ছামুক্ত ঘোষণা থাকতে হবে এবং ঐ ঘোষণা তার স্বাক্ষরিত হতে হবে এবং দু’জন স্বাক্ষী দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।

ধারা-১১। দরখাস্ত গ্রহণের পর পদ্ধতি:
(১) যদি আদালত এই মর্মে সন্তুষ্ট হন যে দরখাস্তটি নিয়ে অগ্রসর হওয়ার যথে কারণ আছে তা হলে উহা শুনানির জন্য একটি দিন ঠিক করবেন এবং দরখাস্ত ও শুনানির তারিখের নোটিশ দিবেন-
(ক) দেওয়ানী কার্যবিধিতে নির্দেশিত মতে নিম্নোক্ত ব্যক্তিদের উপর জারি করাতে হবে।
(১) নাবালকের মাতাপিতা যদি তারা বাংলাদেশ বাস করে;
(২) নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি জিম্মাদার বা দখলদার হিসাবে দরখাস্তে বা পত্রে কারো নাম উল্লেখ করা হয়ে থাকলে;
(৩) উক্ত ব্যক্তি নিজে দরখাস্তকারী হয়ে থাকলে দরখাস্ত বা পত্রে যাকে অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করার প্রস্তাব করা হয়েছে; এবং

(খ) আদালতের কোন সুপ্রকাশ্য স্থানে এবং নাবালকের বাসস্থানে নোটিশ টাঙ্গাতে হবে এবং এই আইন অনুসারে সুপ্রীম কোর্টের কোন বিধি সাপেক্ষে আদালত যেভাবে উপযুক্ত মনে করে সেভাবে প্রচার করতে হবে।
(২) ১০ ধারার (১) উপধারা অনুযায়ী দরখাস্তে উল্লিখিত কোর্ট অব ওয়ার্ডস তত্ত্বাবধান গ্রহণ করতে পারে এই মর্মে সরকার সাধারণ বা বিশেষ আদেশ দিতে পারে আদালত ও যে কালেক্টরের এলাকায় সাধারণত বসবাস করে এবং সব কালেক্টরের উপর যাদের জেলায় সম্পত্তির অংশবিশেষ অবস্থিত তাদের উপর উপরোল্লিখিত উপায়ে নোটিশ জারি করবেন, কালেক্টরও যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন সেভাবে নোটিশ জারি করতে পারবেন।
(৩) (২) উপ-ধারা অনুযায়ী কোন নোটিশ জারির জন্য বা প্রচারের জন্য আদালত বা কালেক্টর কোন খরচ ধার্য করবেন না।

ধারা-১২। নাবালকের উপস্থাপনের জন্য এবং সম্পত্তি বা শরীরের মধ্যকালীন সংরক্ষণের জন্য অর্ন্তবর্তীকালীন আদেশ প্রদানের ক্ষমতা:
(১) প্রতিপাল্য বা নাবালককে কোন নির্দিষ্ট স্থানে নির্দিষ্ট সময়ে আদালতে নিযুক্ত ব্যক্তির সম্মুখে উপস্থিত করা বা করানোর জন্য তার জিম্মাদার কেহ থেকে থাকলে আদালত তাকে নির্দেশ দিতে পারবেন এবং নাবালকের শরীর বা সম্পত্তির অস্থায়ী জিম্মা সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত বিবেচনা করলে আদেশ দিতে পারবেন।
(২) যদি নাবালক “মেয়ে” হয় যাকে জনসম্মুখে উপস্থিত করান উচিত নয় সেক্ষেত্রে দেশের প্রচলিত প্রথা ও রীতিনীতি অনুসারে তাকে উপস্থিত করবার জন্য (১) উপধারা মোতাবেক আদেশ প্রদান করতে হবে।
(৩) এই ধারার কোন কিছুই ক্ষমতা প্রদান করবে না-
(ক) স্বামী হওয়ার কারণে অভিভাবক হিসাবে দাবী করে এমন ব্যক্তির জিম্মায় কোন নাবালক মেয়েকে দেয়া যাবে না যদি না ইতোপূর্বেই তার পিতামাতার (যদি থেকে থাকে) সম্মতিতে সে তার জিম্মায় থেকে থাকে; অথবা
(খ) কোন নাবালকের অস্থায়ী জিম্মাদার এবং সম্পত্তির সংরক্ষণের দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তি আইন অধীনে ছাড়া অন্যভাবে কোন সম্পত্তির দখলদারকে বেদখল করবার।

ধারা-১৩। আদেশের পূর্বে সাক্ষ্য গ্রহণ:
দরখাস্ত শুনানীর দিন অথবা যথাশীঘ্র সম্ভব তত্পরে দরখাস্তের পক্ষে বিপক্ষে দেয়া সাক্ষ্যসমূহ আদালত শুনবেন।

ধারা -১৪। বিভিন্ন আদালতে যুগপত কার্যাবলী (প্রসিডিং):
(১) অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণার মামলা একাধিক আদালতে চলতে থাকলে প্রত্যেক আদালত অন্য আদালত বা আদালত সমূহের মামলার ব্যাপারে অবগত হওয়ার পর নিজ আদালতের মামলা স্থগিত রাখবেন।
(২) এরূপ উভয় বা সকল আদালত একই হাইকোর্ট ডিভিশনের অধস্তন হলে প্রত্যেক আদালত উক্ত মামলার ব্যাপারে হাইকোর্ট ডিভিশনের প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং হাইকোর্ট ডিভিশন নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা সম্পর্কে উক্ত মামলা কোন আদালতে চলবে তা সিদ্ধান্ত নিবেন।
(৩) (১) উপধারা মোতাবেক স্থগিত মামলার ব্যাপারে আদালতগুলি সরকারের নিকট প্রতিবেদন দিবেন এবং এ ব্যাপারে স্ব স্ব সরকারের প্রদত্ত আদেশ অনুসারে পরিচালিত হবেন।

ধারা-১৫। বহু অভিভাবক নিযুক্তি বা ঘোষণা:
(১) নাবালক যে আইনের অধীন উক্ত আইন যদি তার শরীর, সম্পত্তি অথবা উভয়ের জন্য দুই বা ততোধিক যুগ্ন অভিভাবক অনুমোদন করে আদালত উপযুক্ত মনে করলে তাদেরকে অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করতে পারেন।
(২) ও (৩) উপধারা ১ঌ৭৩ সনের ৮নং আইন দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।
(৪) নাবালকের শরীর ও সম্পত্তির জন্য ভিন্ন অভিভাবক নিযুক্ত বা ঘোষণা করা যায়।
(৫) নাবালকের অনেক সম্পত্তি থাকলে আদালত উপযুক্ত মনে করলে উক্ত সম্পত্তির প্রত্যেকটির বা অনেকটির জন্য ভিন্ন ভিন্ন অভিভাবক নিযুক্ত করতে পারেন।

ধারা-১৬। আদালতের এখতিয়ার বহির্ভূত সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা:
কোন আদালত উহার স্থানীয় এখতিয়ার বহির্ভূত সম্পত্তির জন্য কোন অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করলে যে আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে সম্পত্তি অবস্থিত উক্ত আদালত অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণার জাবেদা নকল উপস্থাপনের পর উক্ত অভিভাবককে বৈধভাবে নিযুক্ত বা ঘোষিত অভিভাবক হিসাবে গ্রহণ করবেন এবং ঐ আদেশটি কার্যকরী করবেন।

ধারা-১৭। অভিভাবক নিয়োগকালে আদালত কর্তৃক বিবেচ্য বিষয়সমূহ:
(১) নাবালকের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণাকালে এই ধারার ব্যবস্থাবলী সাপেক্ষে নাবালক যে ব্যক্তিগত আইনের দ্বারা পরিচালিত উহার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধান করবেন এবং উক্ত নাবালকের মঙ্গলের জন্য যা উত্তম বিবেচনা করবেন সেরূপ আদেশ দিবেন।
(২) নাবালকের মঙ্গলের জন্য কোনটি উত্তম তা বিবেচনাকালে আদালত উক্ত নাবালকের অন্যান্য নিকট আত্নীয় বা জ্ঞাতির চরিত্র ক্ষমতা, আত্নীয়তার নৈকট্য, মৃত পিতা-মাতার কোন ইচ্ছা থাকলে তা এবং নাবালকের কিংবা তার সম্পত্তির সঙ্গে প্রস্তাবিত অভিভাবকের বর্তমান অথবা পূর্বের সম্পর্কের ব্যাপারে দৃষ্টি রাখবেন।
(৩) নাবালক এর বুঝবার বয়স ও ক্ষমতা থাকলে আদালত তাও বিবেচনা করবেন।
(৪) ১৯৭৩ সনের ৮নং আইন দ্বারা বাদ দেয়া হয়েছে।
(৫) কোন ব্যক্তিকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদালত অভিভাবক নিয়োগ করবেন না।

ধারা-১৮। পদাধিকার বলে কালেক্টরের নিয়োগ বা ঘোষণা:
যেক্ষেত্রে আদালত কালেক্টরকে পদাধিকার বলে নাবালকের শরীর, সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করেন, উক্ত নিয়োগ বা ঘোষণার আদেশ নাবালকের শরীর বা সম্পত্তি বা উভয়ের অভিভাবক হিসাবে কাজ করার জন্য ঐ পদে ঐ সময়ে বিদ্যমান ব্যক্তিকে ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে মনে করা হবে।

ধারা-১৯। বিশেষ ক্ষেত্রে আদালত অভিভাবক নিয়োগ করবেন না:
যে নাবালকের সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর তত্ত্বাবধানে আছে সেক্ষেত্রে নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করার অধিকার অত্র ধারা অনুযায়ী আদালতের নাই অথবা নিম্নরূপ ক্ষেত্রে শরীরের অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করবার-
(ক) যেই নাবালক বিবাহিতা মহিলা এবং যার স্বামী আদালতের মতে অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত নহে, অথবা
(খ) ইউরোপিয়ান বৃটিশ প্রজাদের বেলায় এই আইনের ব্যবস্থা সাপেক্ষে যে নাবালকের পিতা জীবিত এবং আদালতের মতে নাবালকের শরীরের অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত নহে, অথবা
(গ) যেই নাবালকের সম্পত্তি কোর্ট অব ওয়ার্ডস এর তত্ত্বাবধানে যা নাবালকের শরীরের ব্যাপারে অভিভাবক নিয়োগের উপযুক্ত।

তৃতীয় অধ্যায়
অভিভাবেকর কর্তব্য, সাধারণ অধিকার ও দায়-দায়িত্ব

ধারা-২০। অভিভাবকের সঙ্গে নাবালকের বিশ্বাসের সম্পর্ক:
(১) নাবালকের সঙ্গে অভিভাবকের সম্পর্ক বিশ্বাসের এবং উইল বা অন্য কোন দলিলের (যদি থাকে) যার অনুবলে তাকে নিয়োগ করা হয়েছে উহার শর্ত ছাড়া, অথবা, এই আইনের ব্যবস্থা ছাড়া অভিভাবক তার পদ দ্বারা কোন লাভ করতে পারবে না;
(২) নাবালকের সঙ্গে অভিভাবকের বিশ্বাসের সম্পর্ক অভিভাবক কর্তব্য নাবালকের বা নাবালক কর্তৃক অভিভাবকের সম্পত্তি ক্রয় এবং নাবালক সাবালক হওয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এবং সাধারণত অভিভাবকের প্রভাব থাকাকালীন তাদের মধ্যকার লেনদেন সমূহকে প্রভাবিত করে।

ধারা-২১। নাবালকের অভিভাবক হিসাবে কাজ করার ক্ষমতা:
একজন নাবালক তা স্ত্রী বা সন্তান ছাড়া অন্য কোন নাবালকের অভিভাবক হিসাবে কাজ করতে অক্ষম, অথবা যেক্ষেত্রে সে (নাবালক) যৌথ হিন্দু পরিবারের নির্বাহী সদস্য সেক্ষেত্রে ঐ পরিবারের অন্য নাবালকের স্ত্রী অথবা সন্তানেরা ছাড়া।

ধারা-২৩। অভিভাবক হিসাবে কালেক্টরের নিয়ন্ত্রণ:
নাবালকের শরীর, সম্পত্তি বা উভয়ের জন্য কালেক্টর আদালত কর্তৃক অভিভাবক হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হলে তিনি নাবালকের অভিভাবকত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ব্যাপারে সরকারের বা এতদপক্ষে গেজেট নোটিফিকেশন দ্বারা নিয়োগ প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে হবেন।

ব্যক্তির অভিভাবক

ধারা-২৪। ব্যক্তির অভিভাবকের কর্তব্য:
একজন নাবালক বা প্রতিপাল্যের অভিভাবককে উক্ত প্রতিপাল্যের জিম্মার ভারার্পণ করা হয় এবং তাকে অবশ্যই প্রতিপাল্যের ভরণ-পোষণ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অন্য সমস্ত ব্যাপার যেগুলি প্রতিপাল্য যে আইনের অধীনে সে আইনে প্রয়োজন, উহার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।

ধারা-২৫। প্রতিপাল্যের জিম্মায় অভিভাবকের হক:
(১) যদি কোন নাবালক বা প্রতিপাল্য তার ব্যক্তির অভিভাবকের জিম্মা ত্যাগ করে বা তাকে জিম্মা হতে অপসারণ করা হয়, প্রতিপাল্যের মঙ্গল বিবেচনায় তাকে অভিভাবকের জিম্মায় ফেরত দেয়া আদালত উপযুক্ত বিবেচনা করলে তার ফেরতের জন্য আদেশ প্রদান করতে পারেন এবং ঐ আদেশ বলবত করবার জন্য প্রতিপাল্যকে গ্রেফতার করতে এবং অভিভাবকের জিম্মায় প্রত্যার্পণ করাতে পারেন।
(২) প্রতিপাল্যকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে আদালত ১৮৯৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধির (১৮ঌ৮ সনের ৫নং আইন) ১০০ ধারাবলে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।
(৩) অভিভাবক নয় এমন ব্যক্তির সঙ্গে অভিভাবকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে বাস করার কারণ অভিভাবকত্ব আপনা-আপনি অবসান হয় না।

ধারা-২৬। প্রতিপাল্যকে এখতিয়ার হতে অপসারণ:
(১) অভিভাবক কালেক্টর না হলে অথবা উইল বা অন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্ত না হলে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক নির্ধারিত উদ্দেশ্য ছাড়া আদালতের অনুমতি ব্যতিরেকে প্রতিপাল্যকে তার এখতিয়ারের সীমা হতে অপসারণ করতে পারবেন না।
(২) (১) উপধারায় প্রদত্ত অনুমতি বিশেষ বা সাধারণ হতে পারে এবং অনুমতির আদেশে তা বর্ণিত হতে পারে।

ধারা-২৭। সম্পত্তির অভিভাবকের কর্তব্যসমূহ:
প্রতিপাল্য বা নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক সাধারণ পরিণামদর্শী ব্যক্তির মত যতদূর সম্ভব সাবধানতার সঙ্গে তার নিজের সম্পত্তির মত উক্ত সম্পত্তি ব্যবহার করতে বাধ্য এবং এই অধ্যায়ের ব্যবস্থাবলী সাপেক্ষে সম্পত্তি অস্তিত্বদান (রিয়েলাইজেশন) সংরক্ষণ অথবা কল্যাণের জন্য যুক্তিসঙ্গত এবং উপযুক্ত সব কাজ করতে পারবেন।

ধারা-২৮। উইলগত অভিভাবকের ক্ষমতা:
উইল বা অন্য কোন দলিল দ্বারা নিযুক্ত অভিভাবকের ক্ষেত্রে প্রতিপাল্য বা নাবালকের অস্থাবর সম্পত্তি বন্ধক বা জিম্মা বা বিক্রি, দান, বিনিময় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করার ক্ষমতা দলিলের বাধা-নিষেধ সাপেক্ষে প্রয়োগযোগ্য হবে, তবে এ আইনের অধীনে তাকে অভিভাবক ঘোষণা করা হলে এবং দলিলের বাধা-নিষেধ সত্ত্বেও আদালত লিখিত আদেশ দ্বারা কোন অস্থাবল সম্পত্তি অনুমতিতে বর্ণিত উপায়ে হস্তান্তর করার অনুমতি দিতে পারেন।

ধারা-২৯। আদালত কর্তৃক নিযুক্ত বা ঘোষিত অভিভাবকের ক্ষমতার সীমা:
কালেক্টর অথবা উইল বা অন্য দলিল দ্বারা নিযুক্ত অভিভাবক ছাড়া যে ব্যক্তি আদালত কর্তৃক প্রতিপাল্য বা নাবালকের অভিভাবক হিসাবে ঘোষিত হয়েছেন তিনি আদালতের পূর্ব অনুমতি ছাড়া-
(ক) তার প্রতিপাল্য বা নাবালকের অস্থাবর সম্পত্তির কোন অংশ বন্ধক, জিম্মা অথবা বিক্রি, দান, বিনিময় বা অন্যভাবে হস্তান্তর করতে পারবে না, অথবা
(খ) পাঁচ বছরের অধিক সময়ের জন্য কিংবা যে তারিখে নাবালক সাবালক হবে তারপর এক বছরের অধিক সময়ের জন্য তার সম্পত্তির কোন অংশের ইজারা বা পাট্টা প্রদান করতে পারবে না।

ধারা-৩০। ২৮ ধারা বা ২৯ ধারা লংঘনে হস্তান্তরের বাতিল যোগ্যতা:
সর্বশেষ উল্লেখিত দুইটি ধারার যে কোন একটি লংঘন করে কোন অভিভাবক স্থাবর সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা করলে তাদ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত যে কোন ব্যক্তির উদ্যোগে তা বাতিলযোগ্য হবে।

ধারা-৩১। ২৯ ধারার হস্তান্তরে অনুমতি প্রদানে চলতি নিয়ম:
(১) ২৯ ধারায় বর্ণিত যেকোন কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্র ব্যতীত অথবা প্রতিপাল্য বা নাবালকের সুস্পষ্ট সুবিধার জন্য ছাড়া আদালত অভিভাবককে কোন অনুমতি দিবেন না।
(২) অনুমতি প্রদানের আদেশে প্রয়োজনীয়তা বা সুবিধার বর্ণনা থাকবে, যে কার্যে সম্পাদনের জন্য অনুমতি দেয়া হয়েছে সে সম্পত্তির বর্ণনা থাকবে এবং আদালত যেখানে সঠিক মনে করেন সেরূপ শর্ত অনুমতির সঙ্গে সংযুক্ত করবেন এবং জজ তাঁর নিজ হাতে আদেশ লিখতে কোন কারণে বাধাগ্রস্ত হন তা হলে তার শ্রুতলিপিতে আদেশ লেখা হবে এবং তারিখ ও স্বাক্ষর তাঁর স্বহস্তে হবে।
(৩) আদালত ইচ্ছা করলে নিম্নলিখিত শর্তগুলো অনুমতির সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারেন যে,

(ক) আদালতের অনুমতি ছাড়া বিক্রি সম্পন্ন হবে না;
(খ) এই আইনের অধীনে সুপ্রীম কোর্টের প্রণীত বিধি সাপেক্ষে আদালতের নির্দেশমত বিক্রিকালে প্রস্তাবিত বিক্রির ঘোষণার পর কোন নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময়ে আদালতের সামনে বা উক্ত উদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক বিশেষভাবে নিযুক্ত ব্যক্তিবর্গের সামনে সর্বোচ্চ ডাককারীর নিকট প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করতে হবে;
(গ) প্রিমিয়াম বা অধিমূল্য বিবেচনায় ইজারা দেয়া হবে না বা আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী এরূপ মেয়াদের বছরের শর্তে এবং খাজনা ও চুক্তির সাপেক্ষে দেওয়া হবে।
(ঘ) অভিভাবক অনুমতি প্রদত্ত কার্যের লব্ধ টাকার সম্পূর্ণ বা আংশিক আদালতে জাম দিবে যা হতে ব্যয় করা হবে অথবা নির্ধারিত জামিনে বিনিয়োগ করা হবে অথবা আদালতের নির্দেশে অন্যভাবে হস্তান্তর করা হবে।
(৪) ২৯ ধারায় বর্ণিত অভিভাবককে কোন কার্যের অনুমতি প্রদানের পূর্বে আদালতে অনুমতির দরখাস্তের নোটিশ প্রতিপাল্য বা নাবালকের আত্নীয় বা বন্ধুর উপর, আদালতের মতে যাহারা উক্ত নোটিশ পাওয়া উচিত, জারী করা হতে পারে এবং ঐ দরখাস্তের বিরুদ্ধে কোন ব্যক্তি উপস্থিত হলে আদালত তার বক্তব্য শুনবেন এবং তার বিবৃতি লিপিবদ্ধ করবেন।

ধারা-৩২। আদালতের নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবকের ক্ষমতার পরিবর্তন:
যেখানে কোন নাবালকের অভিভাবক কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়েছেন এবং তিনি কালেক্টর নন সেক্ষেত্রে আদালত নাবালক বা প্রতিপাল্যের ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তার মঙ্গলের জন্য সম্পত্তির ব্যাপারে অভিভাবকের ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করে বা বাড়িয়ে যেভাবে উপযুক্ত মনে করেন সেভাবে আদেশ দিতে পারেন।

ধারা-৩৩। এরূপ নিয়োগপ্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবকের নাবালকের সম্পত্তি ব্যবস্থাপনার ব্যাপার আদালতের অভিমত চেয়ে দরখাস্ত করার অধিকার:
(১) আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক উক্ত আদালতের নিকট নাবালকের সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা বা প্রশাসনের যেকোন বর্তমান প্রশ্নের উপর মতামত, উপদেশ অথবা নির্দেশের জন্য আদালতের নিকট দরখাস্ত করতে পারেন।
(২) আদালত যদি উক্ত প্রশ্নকে সংক্ষিপ্তভাবে নিষ্পত্তির যোগ্য মনে করেন তবে আদালত উপযুক্ত মনে করলে যে সমস্ত স্বার্থযুক্ত ব্যক্তি শুনানিতে যোগ দিবেন তাদের উপর উক্ত দরখাস্তের নকল জারি করবেন।
(৩) অভিভাবক সরল বিশ্বাসে দরখাস্তে ঘটনা বিবৃত করে এবং আদালতের দেয়া মতামত উপদেশ বা নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করলে দরখাস্তের বিষয়বস্তুর ব্যাপারে অভিভাবক হিসাবে তা কর্তব্য সম্পন্ন করা হয়েছে বলে মনে করা হবে।

ধারা-৩৪। আদালতের নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত সম্পত্তির অভিভাবকের দায়িত্ব:
যেখানে নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়েছে এবং কালেক্টর না হলে তিনি-

(ক) নাবালকের সাময়িক মঙ্গল নিশ্চিত করার জন্য আদালত চাইলে যথাসম্ভব নির্ধারিত ফর্মায় আদালতের বিচারকদের নিকট জামানতসহ বা ছাড়া যেমন নির্ধারিত করা হয়, মুচলেকা দিতে হবে এবং নাবালকের সম্পত্তি হতে যা পাওয়া যায় তার হিসাব দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিবে।
(খ) আদালত যদি প্রয়োজন মনে করে নিয়োগ বা ঘোষণার ছয় মাসের মধ্যে অথবা আদালতের নির্দেশিত সময়ের মধ্যে বা নাবালক বা প্রতিপাল্যের সম্পত্তি, টাকা এবং অন্য স্থাবর সম্পত্তি বা বিবরণ দেয়ার তারিখ পর্যন্ত নাবালকের পক্ষ হতে যা তিনি পেয়েছেন এবং ঐ তারিখে নাবালকের দেয় বা প্রাপ্ত ঋণের বিবরণ আদালতে দাখিল করবেন।
(গ) আদালতে যদি প্রয়োজন মনে করে সময় সময় যেভাবে নির্দেশ প্রদান করেন সেভাবে এবং সে সময়ে তার হিসাব এবং সে সময়ে তার হিসাব আদালতে প্রদর্শন করবেন।
(ঘ) আদালতে যদি প্রয়োজন মনে করেন আদালতের নির্দেশিত সময়ে ঐ সমস্ত হিসাবের উদ্বৃত্ত বা উহার ঐ পর্যন্ত যাহা আদালত নির্দেশ দেন তা আদালতে প্রদান করতে হবে।
(ঙ) নাবালকের বা ঐ সমস্ত ব্যক্তি যারা তার পোষ্য তাদের খোরপোষ, শিক্ষা ও উত্কর্ষের জন্য এবং নাবালক বা তার পোষ্যরা পক্ষ থাকতে পারে এমন পবিত্র ক্রিয়াকর্মের ধর্মানুষ্ঠানের জন্য আদালতে আবেদন করবেন এবং নাবালকের সম্পত্তির আয়ের এরূপ অংশের জন্য যা আদালত সময় সময় নির্দেশ দিবেন এবং আদালত আদেশ দিলে ঐ সম্পত্তির সম্পূর্ণ বা কোন অংশ।

ধারা-৩৪ক। হিসাব নিরীক্ষার জন্য পারিশ্রমিক প্রদানের ক্ষমতা:
৩৪ ধারার (গ) দফা অনুসারে তলব করা হলে বা অন্যভাবে নাবালকের সম্পত্তির অভিভাবক হিসাবে প্রদর্শন করলে আদালত কোন ব্যক্তিকে উক্ত ব্যক্তিকে উক্ত হিসাব নিরীক্ষা করার জন্য নিয়োগ করতে পারেন এবং সম্পত্তির আয় হতে উক্ত কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেয়ারও নির্দেশ দিতে পারেন।

ধারা-৩৫। প্রশাসন-মুচলেকার ক্ষেত্রে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা:
যেখানে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক নাবালকের সম্পত্তি হতে যা পেরে পারে তার সঠিক হিসাব দেয়ার জন্য মুচলেকা দিয়েছে, দরখাস্ত দ্বারা আবেদন করলে এবং মুচলেকার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয় নাই মর্মে সন্তুষ্ট হলে এবং জামানতের এমন শর্তের উপর অথবা গৃহীত যেকোন টাকা আদালতে প্রদান করার শর্তে অথবা আদালত অন্য যেভাবে উচিত মনে করেন অন্য যে কোন ব্যক্তির নিকট উক্ত মুচলেকা হস্তান্তর করতে পারে এবং ঐরূপ ব্যক্তি তার নিজ নামে মুচলেকার উপর মামলা দায়ের করতে পারবে যেমন আদালতের বিচারকের পরিবর্তে মূলতঃ মুচলেকা তাকে দেয়া হয়েছিল এবং নাবালক বা প্রতিপাল্যের অছি হিসাবে কোন লংঘনের ব্যাপারে আদায় করার অধিকারী হবে।

ধারা-৩৬। প্রশাসন -মুচলেকা না নেওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলা:
আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক উপরোল্লিখিত মতে মুচলেকা দেয় নাই আদালতের অনুমতি নিয়ে যে কোন ব্যক্তি পরবর্তি বন্ধু হিসেবে প্রতিপাল্যের নাবালক থাকাকালীন সময়ে উপরোল্লিখিত শর্তে অভিভাবকের বিরুদ্ধে অথবা তার মৃত্যু হলে প্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিভাবক হিসেবে নাবালকের সম্পত্তি হতে যা পেয়েছে তার হিসেবে দেয়ার জন্য মামলা করতে পারে এবং নাবালকের অছি হিসেবে অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির নিকট দেয় টাকা মামলা মারফত আদায় করতে পারে।

(২) (১) উপ-ধারার ব্যবস্থাবলি এই আইন কর্তৃক সংশোধিত দেওয়ানী কার্যবিধির ৩২ আদেশ ১ বিধি এবং ৪ (২) তফশিল–১ সাপেক্ষে অভিভাবকের বিরুদ্ধে মামলার ব্যাপারে প্রযোজ্য হবে।

ধারা-৩৭। অছি হিসাবে অভিভাবকের সাধারণ দায়-দায়িত্ব:
উপরোল্লিখিত শেষ দুই ধারার কোন কিছু দ্বারাই কোন প্রতিপাল্য বা তার প্রতিনিধিকে অভিভাবক বা তার প্রতিনিধির বিরুদ্ধে কোন প্রতিকার হতে বঞ্চিত করা হয়েছে এমন ব্যাখ্যা করা যাবে না। ঐগুলি স্পষ্টভাবে যে কোন ধারায় বলা হয় নাই বিধায় যে কোন স্বত্বভোগী বা তার অছি অথবা অছির প্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রতিকার পাবে।

অভিভাবকত্বের অবসান

ধারা-৩৮। যুগ্ন অভিভাবকদের উত্তর জীবিতার অধিকার:
দুই বা ততোধিক যুগ্ন অভিভাবকদের মৃত্যু হলে আদালত কর্তৃক আরো অভিভাবক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত উত্তরজীবী বা উত্তরজীবীগণ কর্তৃক অভিভাবকত্ব চালু থাকবে।

ধারা-৩৯। অভিভাবকের অপসারণ:
কোন স্বার্থমুক্ত ব্যক্তির দরখাস্তের পরিপ্রেক্ষিতে বা নিজ প্রস্তাবে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক অথবা উইল বা অন্য দলিল দ্বারা নিযুক্ত অভিভাবককে আদালত নিম্নের যে কোন কারণে অপসারণ করতে পারেন। যথা-

(ক) তার অছির অপব্যবহারের জন্য;
(খ) তার অছির কর্তব্য পালনে অনবিচ্ছিন্ন ব্যর্থতার জন্য;
(গ) তার অছির কর্তব্য পালনে অযোগ্যতার জন্য;
(ঘ) তার প্রতিপাল্যের প্রতি দুর্ব্যবহার বা তার প্রতি উপযুক্ত যত্ন নিতে অবহেলা করার জন্য;
(ঙ) এই আইনের কোন বিধানের প্রতি বা কোন আদালতের কোন আদেশের প্রতি একগুয়েমিভাবে অবজ্ঞা করার জন্য;
(চ) কোন অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হলে বা আদালতের মতে চরিত্রগত ক্রটি বুঝায় যার দরুন প্রতিপাল্যের অভিভাবক হিসাবে থাকার অযোগ্য হয়ে পড়ে, তার জন্য;
(ছ) বিশ্বস্তভাবে তার কর্তব্য সম্পাদনের ক্ষেত্রে বিরূপ স্বার্থ থাকার কারণে;
(জ) আদালতের স্থানীয় এলাকার মধ্যে বাস করা বন্ধ করার কারণে;
(ঞ) প্রতিপাল্য বা নাবালকের ব্যক্তিগত আইনের অধীনে অভিভাবকের অভিভাবকত্ব বন্ধ হলে বা বন্ধ হতে বাধ্য হলে; তবে শর্ত থাকে যে, অভিভাবক উইল বা অন্য দলিল দ্বারা নিযুক্ত হলে এই আইনে ঘোষিত হোক বা না হোক তাহকে অপসারণ করা যাবে না।
(ক) (ছ) দফায় বর্ণিত কারণের জন্য, তবে যে ব্যক্তি তাকে নিয়োগ করেছেন তার মৃতু্যর পর বিরূপ স্বার্থ উদ্ভব না হলে অথবা যদি ইহা দেখানো হয় যে ঐ ব্যক্তি বিরূপ স্বার্থের অস্তিত্বের নিয়োগদান ও বহাল রেখেছে; অথবা
(খ) (জ) দফায় বর্ণিত কারণের জন্য যদি না এরূপ অভিভাবক এমন বাসস্থান নেয় যা আদালতের মতে অভিভাবক হিসাবে কর্তব্য পালনের জন্য অবাস্তব।

ধারা-৪০। অভিভাবকের কার্যমুক্তি:
(১) আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক পদত্যাগ করতে ইচ্ছা করলে সে আদালতের নিকট কার্যমুক্তির জন্য আবেদন করতে পারেন।
(২) আদালত আবেদনের সন্তোষজনক কারণ দেখালে তাকে কার্যমুক্ত করবেন এবং আবেদনকারী অভিভাবক যদি কালেক্টর হন এবং সরকার তার কার্যমুক্তির আবেদন অনুমোদন করেন তবে আদালত তাকে কার্যমুক্ত করবেন।

ধারা-৪১। অভিভাবকের কর্তৃত্বের বিরাম:
(১) ব্যক্তির বা শরীরের অভিভাবকের ক্ষমতার অবসান হয়-
(ক) তার মৃত্যু, অপসারণ বা কার্যমুক্তিতে;
(খ) কোর্ট অব ওয়ার্ডস প্রতিপাল্যের শরীরের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করলে;
(গ) প্রতিপাল্যের নাবালকত্বের বিরতি হলে;
(ঘ) মহিলা প্রতিপাল্যের ক্ষেত্রে তার বিবাহ হলে এবং স্বামী তার ব্যক্তির অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত না হলে অথবা অভিভাবক আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়ে থাকলে প্রতিপাল্যের বিবাহের ক্ষেত্রে স্বামী আদালতের মতে অনুপযুক্ত না হলে; অথবা
(ঙ) প্রতিপাল্যের ক্ষেত্রে যার পিতা তাহার শরীরের অভিভাবক হওয়ার অনুপযুক্ত ছিল, উক্ত পিতার (অনুপযুক্ততা) বন্ধ হলে অথবা যদি পিতা আদালত কর্তৃক ঐরূপ অনুপযুক্ত গণ্য হয়ে থাকে, আদালতের মতে তার (উক্ত অনুপযুক্ততার) অবসান হলে।
(২) সম্পত্তির অভিভাবকের ক্ষমতার অবসান হয়-
(ক) তার মৃত্যু, অপসারণ বা কার্য মুক্তিতে;
(খ) কোর্ট অব ওয়ার্ডস প্রতিপাল্যের শরীরের তত্ত্বাবধান গ্রহণ করলে;
(গ) প্রতিপাল্যের নাবালকত্বের বিরতি হলে;
(৩) যখন কোন কারণে অভিভাবকের ক্ষমতার অবসান হয় আদালত তাকে বা তার মৃত্যু হলে তার প্রতিনিধিকে তার দখলে বা নিয়ন্ত্রণে থাকা নাবালকের সম্পত্তি নির্দেশিত মতে সমর্পণ করার অথবা নাবালকের অতীত বা বর্তমান সম্পত্তির হিসাব নির্দেশিত মতে সমর্পণ করার জন্য তলব করতে পারেন।
(৪) আদালতের তলব মতে সে সম্পত্তি বা হিসাব সমর্পণ করলে পরবর্তীকালে উদঘাটিত হতে পারে এমন প্রতারণা ছাড়া আদালত তাকে দায়-দায়িত্ব হতে মুক্ত ঘোষণা করতে পারে।

ধারা-৪২। মৃত, কার্যমুক্ত বা অপসারিত অভিভাবকের উত্তরাধিকারী নিয়োগ:
যখন আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক কার্যমুক্ত হয়, অথবা প্রতিপাল্যের ব্যক্তিগত আইনের অধীনে কার্য করার অধিকার হতে বিরত হয় অথবা যখন উইল বা অন্য দলিল দ্বারা নিযুক্ত এমন অভিভাবক অপসারিত হয় বা মারা যায়; আদালত নিজ প্রস্তাবে অথবা ২য় অধ্যায়ের অধীনে দরখাস্তের উপর প্রতিপাল্য তখনো নাবালক থাকলে তার ব্যক্তি বা সম্পত্তি বা ক্ষেত্রমত উভয়ের জন্য অন্য একজন অভিভাবক নিয়োগ বা ঘোষণা করতে পারেন।

অনুপূরক বিধানসমূহ

ধারা-৪৩। অভিভাবকদের ব্যবহার বা আচরণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আদেশ এবং ঐসব আদেশের বলবত্করণ:
(১) স্বার্থমুক্ত কোন ব্যক্তির দরখাস্তের উপর অথবা নিজ প্রস্তাবে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবকের ব্যবহার বা আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে আদালত আদেশ জারি করতে পারেন।
(২) যেখানে একজন প্রতিপাল্যের একাধিক অভিভাবক আছে এবং তারা তার মঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত কোন প্রশ্নের ব্যাপারে একমত হতে অক্ষম, সেক্ষেত্রে তাদের (অভিভাবক) যেকোন একজন নির্দেশের জন্য আদালতে আবেদন করতে পারেন এবং তাদের মতানৈক্যের ব্যাপারে আদালত যেমন উচিত মনে করেন সেভাবে আদেশ দিতে পারেন।
(৩) (১) উপধারা বা (২) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ বিলম্বের দরুন নিষ্ফল প্রতিপন্ন হবে এরূপ প্রতীয়মান হওয়ার ক্ষেত্র ছাড়া আদালত আদেশ প্রদানের পূর্বে (১) উপ-ধারার অধীনে হলে অভিভাবকের উপর অথবা (২) উ-ধারার অধীনে হলে দরখাস্ত করে নাই এমন অভিভাবকের উপর আবেদন পত্রের নোটিশ বা আদালতের (আদেশ প্রদানের) ইচ্ছার নোটিশ জারি করার নির্দেশ দিবেন।
(৪) (১) বা (২) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশের অবাধ্যতার ক্ষেত্রে আদেশটি দেওয়ানী কার্যবিধির (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) ৩৯ আদেশ ১ ও ২ বিধির অধীনে মঞ্জুরীকৃত নিষেধাজ্ঞার মত একইভাবে বলবত করতে হবে যেন (১) উপ-ধারার অধীনে আদেশের ক্ষেত্রে প্রতিপাল্য বাদী এবং অভিভাবক বিবাদী ছিল অথবা (২) উপ-ধারার অধীনে আদেশের ক্ষেত্রে প্রতিপাল্য বাদী এবং অভিভাবক বিবাদী ছিল অথবা (২) উপ-ধারার অধীনে আদেশের ক্ষেত্রে আবেদনকারী অভিভাবক বাদী অন্যান্য অভিভাবক বিবাদী ছিল।

(৫) (২) উপ-ধারার অধীনের ঘটনা ছাড়া এই ধারার কোন কিছুই অভিভাবক হিসেবে কালেক্টরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

ধারা-৪৪। এখতিয়ার হতে প্রতিপাল্যের অপসারণের জন্য শাস্তি:
যদি প্রতিপাল্যের ব্যাপারে আদালতের কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা বা কার্যকর করা হতে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত অভিভাবক ২৬ ধারার বিধান লংঘন করে কোন প্রতিপাল্যকে আদালতের এখতিয়ারের সীমা হতে সরিয়ে নেয় তা হলে সে আদালতের আদেশে অনূর্ধ্ব এক হাজার টাকা জরিমানা অথবা ছয় মাস পর্যন্ত দেওয়ানী কারাবাস ভোগ করতে বাধ্য থাকবে।

ধারা-৪৫। অবাধ্যকতা শাস্তি:
(১) নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে যথা-
(ক) নাবালকের জিম্মাদার কোন ব্যক্তি তাকে উপস্থিত করার বা করানোর জন্য ১২ ধারার (১) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশ পালনে যদি ব্যর্থ হয় অথবা ২৫ ধারার (১৬) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত আদেশের আনুগত্যে অভিভাবকের জিম্মায় নাবালককে ফেরত আনতে বাধ্য করার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা না করে, অথবা

(খ) আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত কোন অভিভাবক ৩৪ ধারার (খ) দফা দ্বারা বা অধীনে অনুমোদিত সময়ের মধ্যে (ঐ দফায়) প্রয়োজনীয় বিবরণ দাখিল করতে অথবা ঐ ধারার (গ) দফার অধীনে তলবকৃত হিসাব প্রদর্শন অথবা ঐ ধারার (ঘ) দফার অধীনে তলবকৃত ঐ সমস্ত হিসাব তার নিকট পাওনা উদ্বৃত্ত আদালতে প্রদান করতে ব্যর্থ হলে অথবা (গ) অভিভাবক হিসাবে আর নাই এমন কোন ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি কোন সম্পত্তি বা হিসাব অর্পণের ৪১ ধারার (৩) উপ-ধারার অধীনে প্রদত্ত তলব পালনে ব্যর্থ হলে অবস্থামত ঐ ব্যক্তি অভিভাবক অথবা প্রতিনিধি আদালতের আদেশে একশত টাকা পর্যন্ত জরিমানা প্রদানে এবং অবাধ্যতার পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে ত্রুটি চলতে থাকার সময় প্রথম দিনের পরে প্রতিদিনের জন্য দশ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং সর্বসাকুল্যে পাঁচশত টাকার বেশি নয় এবং অবস্থামত নাবালককে উপস্থিত বা উপস্থিত করানোর জন্য অথবা তাকে ফেরতে বাধ্য করার জন্য অথবা বিবরণ দাখিল করার জন্য অথবা হিসাব প্রদর্শনের জন্য অথবা উদ্বৃত্ত প্রদানের জন্য অথবা সম্পত্তি অথবা হিসাব অর্পণের জন্য প্রতিশ্রুতি দেয়া পর্যন্ত দেওয়ানী কারাগারে আটক থাকতে বাধ্য থাকবে।
(২) যে ব্যক্তি (১৬ উপ-ধারার অধীনে) প্রতিশ্রুতি দিয়া আটক অবস্থা হতে মুক্তি পেয়ে আদালত কর্তৃক অনুমোদিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে আদালত তাকে গ্রেফতার করতে এবং পুনঃ দেওয়ানী কারাগারে সোপর্দ করতে পারেন।

ধারা-৪৬। কালেক্টর এবং অধস্তন আদালত কর্তৃক প্রতিবেদন:
(১) আদালত কালেক্টর বা অধস্তন আদালতের নিকট হতে এই আইনের মামলায় উদ্ভুত কোন ব্যাপারে প্রতিবেদন তলব করতে এবং উক্ত প্রতিবেদনকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।
(২) প্রতিবেদন প্রস্তুতির উদ্দেশ্যে ক্ষেত্রমত কালেক্টর বা অধস্তন আদালতের বিচারক যেভাবে প্রয়োজন মনে করেন সেভাবে তদন্ত করবেন এবং তদন্তের উদ্দেশ্যে কোন সাক্ষীকে উপস্থিত হতে বা দলিল দাখিল করতে দেওয়ানী কার্যবিধি কর্তৃক আদালতের উপর বর্ণিত ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেন।

ধারা-৪৭। আপিলযোগ্য আদেশ যেকোন আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট ডিভিশনে আপিল চলবে:
(ক) ৭ ধারার অধীনে অভিভাবক নিয়োগ, ঘোষণা অথবা নিয়োগ বা ঘোষণা করতে অস্বীকার করলে, অথবা
(খ) ৯ ধারা (৩) উপ-ধারার অধীনে কোন দরখাস্ত ফেরত দিলে, অথবা
(গ) ২৫ ধারার অধীনে অভিভাবকের জিম্মায় প্রতিপাল্যকে ফেরত দেয়ার আদেশ করা বা আদেশ করতে অস্বীকৃতি জানালে, অথবা
(ঘ) ২৬ ধারার অধীনে প্রতিপাল্যকে আদালতের এলাকার সীমা হতে সরিয়ে নেয়ার অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলে অথবা সে বিষয়ে শর্ত আরোপ করলে, অথবা
(ঙ) ২৮ বা ২৯ ধারার অধীনে কোন অভিভাবক ঐ ধারাতে উল্লিখিত কোন কাজ করার জন্য অনুমতি প্রত্যাখ্যান করলে, অথবা
(চ) ৩২ ধারার অধীনে কোন অভিভাবকের ক্ষমতা সংজ্ঞায়িত, সীমাবদ্ধ বা বৃদ্ধি করলে, অথবা
(ছ) ২ঌ ধারার অধীনে কোন অভিভাবককে অপসারণ করলে, অথবা
(জ) ৪০ ধারার অধীনে কোন অভিভাবককে কার্যমুক্ত করতে অস্বীকার করলে, অথবা
(ঝ) ৪৩ ধারার অধীনে কোন অভিভাবকের আচরণ বা কার্যাবলি নিয়ন্ত্রণ করলে বা যুগ্ন অভিভাবকদের মধ্যে কোন পার্থক্যের বিষয় সিদ্ধান্ত দিলে, বা আদেশটি বলবত করলে, অথবা
(ঞ) ৪৪ ধারার ৩৪ ধারার অধীনে কোন জরিমানা আরোপ করলে।
এই শর্তে যে, যেখানে জেলা আদালতের অধস্তন কোন কর্মকর্তা প্রদত্ত আদেশ হতে আপীল শ্রেয়, সেখানে জেলা আদালতে আপীল চলবে।

ধারা-৪৮। অন্যান্য আদেশের উপসংহার:
উপরোক্ত শেষ ধারার এবং দেওয়ানী কার্যবিধি ১১৫ ধারার (১৯০৮ সনের ৫নং আইন) বিধান ছাড়া এই আইনের প্রদত্ত যেকোন আদেশ চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং কোন মামলা বা অন্যভাবে তা বিতর্কের যোগ্য হবে না।

ধারা-৪৯। খরচ:
কোন অভিভাবক বা অন্য কোন ব্যক্তিকে দেওয়ানী কারাবাসে আটক রাখার খরচ সহ এই আইনের যেকোন মামলার খরচ অত্র আইনের অধীনে হাইকোর্ট ডিভিশনের প্রণীত কোন বিধি সাপেক্ষে যেই আদালতের মামলা সেই আদালতের বিবেচনার উপর নির্ভর করবে।

ধারা-৫০। হাইকোর্ট ডিভিশনের বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা:
(১) এই আইন দ্বারা স্পষ্ট বা অন্যভাবে প্রদত্ত বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা ছাড়া হাইকোর্ট ডিভিশন সময় সময় এই আইনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিধি প্রণয়ন করতে পারেন-
(ক) কালেক্টর বা অধস্তন আদালত হতে কোন বিষয়ে এবং কি সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন তলব করা উচিত, সে ব্যাপারে
(খ) অভিভাবকের জন্য কি ভাটা মঞ্জুর এবং তাদের নিকট হতে কি জামিন চাওয়া হবে এবং কোন ক্ষেত্রে ঐরূপ ভাতা মঞ্জুর করা উচিত হবে, সে ব্যাপারে;
(গ) কি কি অবস্থায় ৩৪ ধারার (ক), (খ) ও (ঘ) দফায় বর্ণিত বিষয়ে তলব দেয়া উচিত হবে, সে ব্যাপারে
(ঙ) অভিভাবক কর্তৃক প্রদত্ত বিবরণ এবং প্রদর্শিত হিসেবে সংরক্ষণের ব্যাপারে
(চ) স্বার্থযুক্ত ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক ঐ সব বিবরণ এবং হিসাব পরিদর্শনের ব্যাপারে;
(ছ) ৩৪-ক ধারার অধীনে হিসাব নিরীক্ষার জন্য যে শ্রেণীর লোক নিয়োগ করা উচিত এবং পারিশ্রমিকের কি ধাপ মঞ্জুর করা উচিত সে ব্যাপারে;
(জ) প্রতিপাল্যের টাকার জিম্মা টাকার জামিনের ব্যাপারে;
(ঝ) প্রতিপাল্যের টাকা বিনিয়োগ করার জামিনের ব্যাপারে;
(ঞ) প্রতিপাল্যের শিক্ষার ব্যাপারে যার জন্য কালেক্টর নয় এবং এমন অভিভাবক আদালত কর্তৃক নিয়োগ প্রাপ্ত বা ঘোষিত হয়েছেন সে বিষয়ে;
(ট) সাধারণত এই আইনের উদ্দেশ্য সাধনে আদালত সমূহের নির্দেশনার জন্য।
(২) (১) উপ-ধারার (ক) এবং (জ) দফা সরকার কর্তৃক অনুমোদিত না হলে কার্যকরী হবে না এবং এই ধারার কোন বিধিই সরকারি গেজেট এ প্রকাশিত হওয়ার পূর্বে কার্যকরী হবে না।

ধারা-৫১। বাতিল করা হয়েছে।
ধারা-৫২। বাতিল করা হয়েছে।
ধারা-৫৩। বাতিল করা হয়েছে।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮০
[১৯৮০ সালের ৩৫ নং আইন]
বিবাহে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করিবার জন্য আইন।যেহেতু বিবাহে যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ নিষিদ্ধ করিবার জন্য বিধান করা সমীচীন ; সেইহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন প্রণয়ন করা হইল :
১। সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রারম্ভ (Short title and commencement) :
(১) এই আইনকে যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন, ১৯৮০ নামে অভিহিত করা হইল।
(২) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যে তারিখ নির্দিষ্ট করিবেন সেই তারিখেই ইহা বলবত হইবে।
২। সংজ্ঞা (Definition) : এই আইন বিষয়ে বা প্রসঙ্গে প্রতিকূল কোন কিছু না থাকিলে যৌতুক বলিতে –
(ক) বিবাহে একপক্ষ কর্তৃক অপর পক্ষকে ; অথবা
(খ) বিবাহে কোন এক পক্ষের পিতা মাতা কর্তৃক বা অন্য যে কোন ব্যক্তি কর্তৃক অপর পক্ষকে বা অপর কোন ব্যক্তিকে, বিবাহকালে বা বিবাহের পূর্বে বা পরে যেকোন কালে উক্ত পক্ষগণের বিবাহে পণ হিসেবে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রদত্ত বা প্রদান করিতে সম্মত যে কোন সম্পত্তি বা মূল্যবান জামানতকে বুঝায়, তবে যে সকল ব্যক্তির ক্ষেত্রে মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) প্রযোজ্য সে সকল ব্যক্তির দেনমোহর বা মোহর অন্তর্ভূক্ত করে না।
ব্যাখ্যা-১। সন্দেহ নিরসনের জন্য এতদ্বারা ঘোষণা করা হইলো যে, কোন বিবাহের সময় বিবাহের কোন পক্ষকে বিবাহের পক্ষ নয় এমন যেকোন ব্যক্তি কর্তৃক অনধিক পাঁচশত টাকা মূল্যের দ্রব্য সামগ্রীর আকারে প্রদত্ত কোন উপহার এই ধারার অর্থানুসারে যৌতুক বলিয়া গণ্য হইবে না, যদি তাহা উক্ত পক্ষের বিবাহের পণ হিসেবে প্রদত্ত না হয়।
ব্যাখ্যা -২। মূল্যবান জামানত অভিব্যক্তিটি দন্ডবিধির (১৮৬০ সালের ৪৫ নং আইন) ৩০ ধারায় যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই একই অর্থ বহন করে।
৩। যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের জন্য দন্ড (Penalty for giving or taking dowry) :
এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হওয়ার পর যদি কোন ব্যক্তি যৌতুক প্রদান বা গ্রহণ করে অথবা প্রদান বা গ্রহণে প্ররোচনা দেয়, তাহা হইলে সে কারাদন্ডে পাঁচ বত্সর পর্যন্ত হইতে পারে এবং এক বত্সরের কম নহে কারাদন্ডে বা জরিমানায় কিংবা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।
৪। যৌতুক দাবি করিবার জন্য দন্ড (Penalty for giving or taking dowry) :
এই আইনের কার্যকারিতা আরম্ভ হইবার পর যদি কোন ব্যক্তি ক্ষেত্রমতে বর বা কনের পিতামাতা বা অভিভাবকের নিকট হইতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন যৌতুক দাবি করে, তাহা হইলে সে পাঁচ বত্সর মেয়াদ পর্যন্ত বর্ধনযোগ্য এবং এক বত্সর মেয়াদের কম নহে, কারাদন্ডে বা জরিমানায় বা উভয়বিধ দন্ডে দন্ডিত হইবে।
৫। যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের চুক্তি বাতিল গণ্য হইবে (Agreement for giving or taking dowry to be void) : যৌতুক প্রদান বা গ্রহণের যেকোন চুক্তিপত্র বাতিল বলিয়া গণ্য হইবে।
৬। স্ত্রী বা তাহার উত্তরাধিকারীগণের উপকারার্থে যৌতুক :
(এই ধারাটি ১ঌ৮৪ সনের ৬৪ নং অধ্যাদেশ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে।)
৭। অপরাধ আমলে লওয়া (Cognizance of offences) :
১৮ঌ৮ সনের ফৌজদারী কার্যবিধিতে (১৮ঌ৮ সনের ৫ নং আইন) যেকোন কিছু থাকা সত্ত্বেও-
(ক) প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের অধঃস্তন কোন আদালতই এই আইনের অধীন কোন অপরাধের বিচার করিবেন না ;
(খ) কোন আদালতই উক্ত অপরাধের তারিখ হইতে এক বত্সরের মধ্যে অভিযোগ আনয়ন করা ব্যতীত কোন অপরাধ আমলে আনিবেন না;
(গ) এই আইনের অধীন কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত কোন ব্যক্তিকে এই আইন দ্বারা অনুমোদিত যেকোন দন্ড প্রদান করা প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের জন্য আইনসম্মত হইবে।
৮। অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোসযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে (Offences to be non-cognizable, non-bailable and compoundable) :
এই আইনের অধীন প্রতিটি অপরাধ আমল অযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপোসযোগ্য বলিয়া গণ্য হইবে।

৯। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা (Power to make Rules) :
(১) সরকার অফিসিয়াল গেজেটে বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে এই আইনের উদ্দেশ্যাবলী সাধনে বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারেন।
(২) এই ধারার অধীনে প্রণীত প্রত্যেক বিধি ইহা প্রণীত হওয়ার পর যত্ন তাড়াতাড়ি সম্ভব সংসদে উপস্থাপন করিতে হইবে এবং যে অধিবেশনে উহা উপস্থাপিত হইল সে অধিবেশন শেষ হওয়ার পূর্বেই যদি সংসদ উহাতে কোন পরিবর্তন আনিতে সম্মত হয় বা এই মর্মে সম্মত হয় যে বিধি প্রণয়ন করা হইবে না, তাহা হইলে বিধি তদনুযায়ী ক্ষেত্রমতে শুধুমাত্র সেই পরিবর্তিত আকারে কার্যকর হইবে অথবা আদৌ কার্যকর হইবে না, এই সাপেক্ষে যে, উপরোক্ত যেকোন পরিবর্তন বা নাকচকরণ উক্ত বিধির অধীনে ইতিপূর্বে করা কোন কিছুর সিদ্ধান্ত হানি করিবে না।

Tag Cloud